অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৯ মে: মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র দিনটা ছিল অনেকটাই রবীন্দ্রময়। বছর ঘুরলে রাজ্যে লোকসভা নির্বাচন। তাই রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে বাঙালির আবেগকে ধরার চেষ্টায় খামতি ছিল না বিজেপি-র।
গত বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখে মুখে ফিরত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ বাংলার অন্যান্য মনীষীর নাম। প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছে রবীন্দ্রনাথের কবিতাও। মঙ্গলবার রবীন্দ্রজয়ন্তীতে সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি।
মঙ্গলবার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় টুইটারে লিখেছেন, “চির নূতনেরে দিল ডাক, পঁচিশে বৈশাখ”।
আমাদের মতো প্রবীণ মানুষের কাছে কবিগুরু কখনো পুরনো হবেন না। কিন্তু বিশ্বায়ন প্রভাবিত নতুন প্রজন্ম, যারা ওঁকে অসম্মান না করেও ‘রবট্যাগ’ বলে, তাদের কাছে ওঁকে নতুনভাবে পরিবেশন করা দরকার।
দলের রাজ্য সভাপতি ডঃ সুকান্ত মজুমদার এদিন দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে রাজ্য বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ২৫শে বৈশাখে জোড়াসাঁকোয় ঘুরে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে দলের শীর্ষ রাজ্য নেতাদের সঙ্গে এবং ঠাকুরবাড়ির নানা বিশেষ মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে তা প্রচারমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নিজের অনুভূতিও লিপিবদ্ধ করেছেন অমিত শাহ। আগ্রহ ও শ্রদ্ধা সহকারে ঘুরে দেখেন। সচিত্র বিবৃতিতে লেখা হয়, “পঁচিশে বৈশাখ বাঙালির কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, আবেগ ঘন একটি বিশেষ দিন, এই শুভ দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জী বাংলায় জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে সকলের সঙ্গে কবিগুরুর জন্মদিন উদযাপন করছেন।” বিকেলে সায়েন্স সিটিতে রবীন্দ্রসন্ধ্যারও আয়োজন করেছে বিজেপি। সেখানেও থাকবেন তিনি।
এর পরেও প্রশ্ন থেকে যায়, দিনভর রবীন্দ্রপুজোতেও কতটা বাঙালির মন পেল বিজেপি? ভোটবাক্সের হিসাব কি অনুকূল হবে?

