জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর, ২২ আগস্ট: বন্ধ হয়েছে দুই পাড়ে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা। রুগ্ন শিল্পতালুক হলেও কদর ছিল সড়কের। রেলস্টেশন থেকে শহরে আসা- যাওয়ার সহজ বাইপাস সড়ক। গুরুত্ব থাকলেও সড়কের এমনই বেহাল দশা দুর্গাপুরের লেনিন সরণি। সোমবার মাছ ছেড়ে ধানের চারা পুঁতে অভিনব প্রতিবাদ করল বিজেপির যুব মোর্চা।
দুর্গাপুরেট রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা মাইনিং এন্ড অ্যালয়েড মেশিনারি(এমএএমসি) কারখানার পাশ দিয়ে চলে গেছে লেনিন সরণি। যদিও রাস্তার আর এক প্রান্তে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত বিওজিএল কারখানা। বর্তমানে কারখানাটি বিক্রি হয়ে যাওয়া প্রবেশদ্বারটুকু দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাস্ট্রায়ত্ত কারখানার সুবাদে গড়ে উঠেছিল এমএএমসি টাউনশিপ। কারখানা সংলগ্ন মার্কেট কমপ্লেক্স, ব্যাঙ্ক, অন্যান্য অফিস। এছাড়াও রাস্তাটির অন্যতম গুরুত্ব রয়েছে। দুর্গাপুর স্টেশন থেকে শহরের এমএএমসি, সেপকো, অমরাবতী সহ একাধিক এলাকায় সহজে আসা-যাওয়ার বাইপাস রাস্তা। ডিভিসি মোড়ের মত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা এড়াতে এই রাস্তাটিকে বেশি ব্যবহার করে শহরবাসী। এছাড়াও লেনিন সরণীতে থাকা অন্যান্য বেসরকারি ছোট মাঝারি কারখানার পণ্যবাহী লরি ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে।

এমএএমসি কারখানা বন্ধ হওয়ার পর সড়কটি তেমনভাবে সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ। যার ফলে রাস্তার পিচের স্তর উঠে গেছে। খানাখন্দে ভর্তি। কোথাও এক হাঁটু গর্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “রাস্তাটি দিয়ে ৭-৮ টি বাস নিয়মিত যাতায়াত করে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তার লাইট দীর্ঘদিন আগেই ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে সাধাণ মানুষকে যাতায়াত করতে হয়।” ১৯ নং জাতীয় সড়কের আন্ডারপাশ হেভিমোড় এলাকায় রীতিমতো জল দাঁড়িয়ে আস্ত জলাশয় তৈরী হয়েছে। বেহাল রাস্তার প্রতিবাদে সরব হল বিজেপির যুব মোর্চা। সোমবার হেভিমোড় এলাকায় জলমগ্ন থাকা রাস্তার ওপর মাছের চারা ছেড়ে, ধানের বীজ পুঁতে অভিনব প্রতিবাদ করল বিজেপির যুব মোর্চা।
উপস্থিত ছিল যুব মোর্চার আসানসোল জেলা সভাপতি সন্তোষ মুখার্জি। তিনি বলেন, “তৃণমূল চোরেদের দল। এটা গোটা বিশ্ব আজ জেনে গেছে। বেহাল রাস্তায় লোকজন কম যাতায়াত করবে। রাস্ট্রায়ত্ত বন্ধ কারখানা এলাকায় লোহাচোরদের সুবিধা করতে রাস্তাটি বেহাল রেখেছে বর্তমান তৃণমূল সরকার। তাই জলমগ্ন রাস্তায় মাছ ছেড়ে, ধানের বীজ পুঁতে প্রতিবাদ জানালাম।”
যদিও আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“রাস্তাটির সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছে। যথা সময়ে রাস্তাটি সংস্কার হবে।”

