সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ জুন: পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে বাঁকুড়া জেলাজুড়ে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, গোঁজপ্রার্থী ও দলত্যাগের আশঙ্কায় জেরবার তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। দলের বিক্ষুব্ধ অংশ ও গোঁজ প্রার্থীদের বাগে আনতে শাসক দল সবরকম চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে দলের অন্দরে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে গোষ্ঠীবাজি বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি যে বা যারা দলের হুইপ অমান্য করে গোঁজ প্রার্থী হবেন তাদের বহিস্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য সব দরজা জানালা বন্ধ থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই হুঁশিয়ারি দিয়েও তৃণমূল স্বস্তিতে নেই।
গতকাল সন্ধ্যায় বাঁকুড়া তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ফরমান জানিয়ে দিলেন দলের বাঁকুড়ার পর্যবেক্ষক তথা রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র সমীর চক্রবর্তী। দলের দুই সাংগঠনিক জেলা বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরের সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র এবং অলক মুখোপাধ্যায়কে পাশে বসিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন সমীর বাবু। তিনি বলেন, দলের যারা নির্দল হিসেবে গোঁজ প্রার্থী হয়ে পঞ্চায়েত ভোটে লড়বেন তাদের তো বহিস্কার করা হবেই। এমনকি তারা জিতে এলেও দলের দরজা চিরতরের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। দল তাদের কোনোমতেই ফেরাবে না। যদি তার সমর্থন ছাড়া তৃণমূল বোর্ড গঠন করতে না পারে, সেক্ষেত্রে তৃণমূল বোর্ড গড়বে না, তবুও নির্দল গোঁজ প্রার্থীর সমর্থন নেবে না। হাতে দুই দিন রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য। এই দুই দিনের মধ্যে দলের যারা নির্দল হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করে গোঁজ প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন বলে মনস্থির করেছেন, তাদের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানাবেন সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলার সভাপতিরা।
সুত্রের খবর, যারা দলের এই অনুরোধ রাখবেন তাদের পরবর্তী কালে দল ভালো পদ দিয়ে সম্মান জানাবে। আর যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না তাদের দল বহিস্কার করবে।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য খাদ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি, জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু, তালডাংরার বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ প্রমুখ। তারা সকলেই দলের গোঁজ প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। দলীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের পর এখন দেখার, দলের কজন গোঁজ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন।

