সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩ জুলাই: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ফের রাজ্যে বিজেপি কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হল। নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে একদিন নিখোঁজ থাকার পর বিজেপি কর্মীর থেঁতলানো দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম বঙ্কিম হাঁসদা (৪৮)। তিনি পুরুলিয়ার বোরো থানার কেন্দডি গ্রামের বাসিন্দা। বিজেপির ২০২ নম্বর বুথের সাধারণ সম্পাদক বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি।
রবিবার সকালে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে ওই বিজেপি কর্মী নিখোঁজ হয়ে যান। সোমবার সাতসকালে কেন্দডি থেকে ঝরিয়াডি গ্রামের একটি জোড় যাওয়ার কাঁচা রাস্তার উপর ওই বিজেপি কর্মীর থেঁতলানো দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় বান্দোয়ান বিধানসভার মানবাজার ২ ব্লকের বোরো-জারাগোড়া অঞ্চলের কেন্দডি গ্রামে। ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি কেন্দডি গ্রামে পৌঁছান পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক তথা রাঁচির মেয়র আশা লাকড়া, বিজেপি জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা জেলা ও স্থানীয় বিজেপি নেতারা। সদ্য হারা পরিবারের পাশে গিয়ে সান্ত্বনা জানান তাঁরা। ওই পরিবারের উঠোনে দাঁড়িয়েই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে। এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই কার্যকর্তাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশকে জানালেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি তারা। আদিবাসী এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ভোট করতে চাইছে তৃণমূল।”

বিজেপির জেলা সম্পাদক স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব চ্যাটার্জি বলেন, “বঙ্কিমদা আমাদের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। ষড়যন্ত্র করে তাঁকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ কুকুর এনে সঠিক তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে।”
মৃতের স্ত্রী সুন্দরী হাঁসদা বলেন, “রবিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সকালে গ্রামের অদূরে একটি জোড়ের (ছোট নদী) পাশে দেহ উদ্ধার হয়। আমার স্বামীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটা নিয়েই তাঁর দাবি, এই মৃত্যুর প্রকৃত তদন্ত করতে হবে।”
ঘটনাস্থলে স্নিফার ডগ না এলে দেহ তুলতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানান বিজেপি নেতারা। বিজেপি সাংসদের দাবি, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের প্রচার গাড়িতে হামলার অভিযোগে তিনজনকে মিথ্যে মামলায় পুলিশ
ফাঁসিয়েছিল। সেই তিন অভিযুক্তদের মধ্যে বঙ্কিম হাঁসদার নামও ছিল।
দুপুর থেকে বোরো থানার বাইরে বিজেপির বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন পুরুলিয়া সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। ছিলেন জেলা সভাপতি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সাড়ে চারটে নাগাদ অবরোধ উঠে যায়।
জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, “পরিবারের সদস্যের উপস্থিতিতে ময়না তদন্ত হয়। এছাড়াও পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি হয়। বোরোতে বিজেপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় হৃৎপিন্ডে অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় ওই বিজেপি স্থানীয় নেতার। ময়না তদন্তের রিপোর্ট উদ্ধৃতি করে জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, “ওই রিপোর্ট আমাদের হাতে এসে পৌঁছল। সেখানে লেখা আছে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।” ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে সব কিছু খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

