BJO, Onda, ওন্দায় বিজেপি কার্যকর্তাকে সপরিবারে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, বিধায়কের নেতৃত্বে ফাঁড়িতে বিক্ষোভ

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২২ জানুয়ারি: বিজেপি কার্যকর্তাকে স্বপরিবারে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার মত মারাত্মক অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া জেলার ওন্দা থানার নাকাইজুড়ি নন্দনপুর গ্রামে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল রাতে ওন্দার নাকাইজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নন্দনপুরে এই অভিযোগ ওঠায় আজ সকালেই সেখানে যান ওন্দার বিজেপির বিধায়ক অমরনাথ শাখা। তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই ঘটনার বিরুদ্ধে নাকাইজুড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে বিক্ষোভ দেখান ওন্দার বিধায়ক অমরনাথ শাখার নেতৃত্বে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। তাদের দাবি, দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।

ওন্দা বিধানসভার বিজেপি মিডিয়া সেলের কো কনভেনার তাপস বারিক সপরিবারে তার নন্দনপুরের মাটির বাড়িতে প্রতিদিনের মত বুধবার রাতে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে ওই বাড়ি আগুন লেগে পুড়ে যায়। তাপস বারিক ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বাইরে থেকে দরজায় শিকল তুলে দিয়ে আগুন লাগানো হয়। এমন ভাবে চারদিক থেকে আগুন লেগেছে তাতে স্পষ্ট যে ইচ্ছা করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের পুড়িয়ে মারতে। তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও বাড়িতে থাকা জিনিসপত্র সব আগুনে পুড়ে গেছে।

তাপস বারিকের আরও অভিযোগ, বুধবার নাকাইজুড়ি থেকে সম্মেলন সেরে ফেরার পর এই ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, প্রথমে তার দোকানে হামলা হয়। তারপরে তার বাড়িতে হামলা হয় তাকে সম্পূর্ণভাবে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য। তাঁর অভিযোগ, রাত আড়াইটা নাগাদ তাদের বাড়ির দরজায় কেউ শিকল তুলে দেয় এবং আগুন লাগিয়ে তাদের প্রাণে মারার চেষ্টা করে। তারা কোনরকমে বাড়ি থেকে বেরলেও ক্ষয়ক্ষতি হয় বাড়ির জিনিসপত্রের। তিনি জানান, এই ঘটনা তৃণমূল দুষ্কৃতীরা ঘটিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে নাকাইজুড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে বিক্ষোভ দেখান বিধায়ক অমরনাথ শাখার নেতৃত্বে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। তাদের দাবি, দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।

অমরনাথ বাবু জানান, অবিলম্বে পুলিশ দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করুক। এই ঘটনা তিনি সংশ্লিষ্ট জায়গায় ইতিমধ্যে জানিয়েছেন। তিনি দাবি তুলেছেন, যে সব সিসিটিভি ক্যামেরা আছে আশপাশে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হোক এবং দোষীদের চিহ্নিত করা হোক। তিনি আরো দাবি করেন যে, এই পরিবারটা পুরোপুরি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের কোনো থাকার জায়গা নেই। এই ঠান্ডাতে অসহায় পরিবারের থাকার জন্য একটা ব্যবস্থা করতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান তিনি।

যদিও বিজেপির গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ফলে এই ঘটনা বলে মন্তব্য স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *