আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২ জুন: ভোটের পরেও হিংসা অব্যাহত জগদ্দলে। জগদ্দল বিধানসভার ভাটপাড়া থানা ও পুরসভার ৩২ নাম্বার ওয়ার্ডের অন্তর্গত কাঁকিনাড়া মাদ্রাল কাঁটাবটতলা এলাকায় গৌরাঙ্গ সরকার নামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমাবাজি, ভাঙ্গচুর করল দুষ্কৃতিরা। এছাড়া পাশেই এক মহিলা বিজেপি কর্মীকে ঘর থেকে বের করে নাইটি ছিঁড়ে দিয়ে তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে ভাটপাড়া থানার পুলিশ।
জানাগেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মুখ বেঁধে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী ব্যাপক বোমাবাজি ও ভাঙ্গচুর করে। বিজেপি করার অপরাধেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
নির্বাচনের ফল বেরনোর পর থেকই অশান্ত মাদ্রাল এলাকা। বহু বিজেপি কর্মী, সমর্থক এখনো বাড়ি ছাড়া বলে বিজেপির দাবি। ফলাফল বেরানোর পর থেকে অনেক বিজেপি কর্মীর বাড়ি ঘর ভাঙ্গচুর ও বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গতকাল তার পুনরাবৃত্তি হয়। রাতের অন্ধকারে মুখে গামছা বেঁধে গৌরাঙ্গ সরকারের বাড়িতে বোমাবর্ষণ করে ও ঘর ভাঙ্গচুর করে।

এরপর পাশেই বিজেপির বুথ সভাপতি নন্দদুলাল অধিকারীর বাড়ি যায়। তাঁর স্ত্রী সীমা অধিকারীও বিজেপি কর্মী। হামলাকারীদের দলে কয়েকজন মহিলাও ছিল বলে সীমা অধিকারী জানান। তারা সীমা অধিকারীর নাম ধরে ডাকে। তিনি সাড়া দিলে তাঁকে বাইরে আসতে বলে। তিনি প্রথমে বের হতে রাজি হননি। তার পরেও তাঁকে জোর করে বাইরে বেরিয়ে আসতে নির্দেশ দেয়। তিনি ভয়ে ভয়ে বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, সেদিন ওই মোড়ের মাথায় কী হয়েছিল? তার উত্তরে তিনি বলেন, যে তিনি কিছু জানেন না। এর পরেই এক মহিলা হামলাকারী তাঁর নাইটির সামনের দিক থেকে ধরে টেনে ছিঁড়ে দেয় এবং তারপর তাঁকে মারধর করে।
এব্যাপারে বিজেপির জগদ্দল মণ্ডল–২ এর সভাপতি প্রণব মণ্ডল বলেন, এই বিধানসভার একদিকে জগদ্দল এবং অন্যদিকে ভাটপাড়া থানা। জগদ্দল থানার ২৮, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং ভাটপাড়ার ৩১, ৩২ এবং ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড সবসময় উত্তপ্ত, গন্ডগোল লেগেই আছে। তিনদিন আগেও এক বিজেপি কর্মী এবং তাঁর মাকে মারধর করেছে। আর সীমা অধিকারী অসুস্থ তাঁর হার্টের সমস্যা সহ নানা শারীরিক সমস্যা রয়েছে, সেটা জানা সত্ত্বেও তাঁকে এই ভাবে মারধর করা হয়েছে, ঘর থেকে বের করে জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।
গৌরাঙ্গ সরকার বলেন, ফলাফলের পর আমার বাড়িতে এই নিয়ে ৩ বার হামলা চালানো হল। আমার পরিবার কোভিড আক্রান্ত তা স্বত্ত্বেও বারবার এই আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। আমার একটাই অপরাধ আমি বিজেপি করি।এই ঘটনায় তিনি যথেষ্টই আতঙ্কিত। ঘটনার তদন্তে ভাটপাড়া থানার পুলিশ।
ভাটপাড়া পৌরসভার পৌর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য তৃণমূল নেতা দেবপ্রসাদ সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এরকম কোনও ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কর্মীরা জড়িত নয়। তিনি বলেন, আমারা দিদির সৈনিক, তাঁর নির্দেশ মেনে করোনা পরিস্থিতিতে কাজ করছি। এটা বিজেপির গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ফল।

