সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৬ মে: সাংসদ ও জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সদলবলে দল ছাড়লেন বিজেপি এসসি মোর্চার পুরুলিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক দয়াল সহিস। আজ পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে এসে সদলবলে দলে যোগও দিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে জেলা ও ব্লকের বিভিন্ন পদাধিকারী ঘাসফুল পতাকা হাতে তুলে নেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া ও অন্যান্য নেতৃত্ব।
বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, জেলা সভাপতি বিবেক রাঙার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই সদ্য দলত্যাগী দয়াল সহিস। তিনি বলেন, “আমার দাদা ক্যান্সারে আক্রান্ত। মা প্যারালাইসিসে পড়ে রয়েছেন। সাংসদ, জেলা সভাপতি কেউ কোনও খোঁজ নেননি। অথচ, আমি দলের সংগঠনের জন্য জেলার সব জায়গায় ছুটে বেড়িয়ে সাফল্য এনে দিয়েছিলাম। সাড়ে চার লক্ষ টাকা দলের দিল্লি থেকে আম্বেদকর যাত্রার জন্য খরচ করে ফেরত পাইনি। লোকসভা নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক খরচ দেড় লাখ টাকা করে ফেরত দেয়নি দল। প্রতিশ্রুতি পূরণ তো দূর অস্ত বিজেপি নেতৃত্ব মুখ ফেরায়নি। বুঝলাম বিজেপি পাঞ্জাবি পরা, সোশ্যাল মিডিয়া করার দল। আমাদের মতো তপশিলি জাতিদের জন্য নয়।”

আজকের দল বদলের ফলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জেলা বিজেপির ঘরে বড় ধস বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আজ দলত্যাগীদের বক্তব্যে উঠে আসে হতাশা। বিজেপি দল করতে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়েছে। বিপদে বিজেপি নেতাদের পাশে পাওয়া যায় না। এমনকী যোগাযোগ পর্যন্ত রাখে না। এই দল বড়লোকদের দল। তাই তৃণমূলের ওপর ভরসা রেখে কার্যকর্তাদের নিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেন বলে জানান অন্যান্য নেতা কর্মীরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথড়িয়া বলেন, “তৃণমূলের ওপর ভরসা রেখে এবং নেত্রীর প্রতি আস্থা রেখে এঁরা ৫০ জন দলে যোগদান করলেন। আমরা তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি। আগামী দিনে তাদের দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে কাজ করানো হবে।”

বিজেপি জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, “গুরুত্ব নেই তাই দল দায়িত্ব দেয়নি ওঁকে। আর দল বদলের সময় এইরকম অনেকেই দোষারোপ করেন এটা আর নতুন কিছু নয়।”

