শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২১ মার্চ:বিজেপি চলে স্কিমে আর তৃণমূল চলে স্ক্যামে। আজ বাঁকুড়ার সভা থেকে এভাবেই চাঁচা ছোলা ভাষায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি মনে করিয়ে দেন যে যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি মমতা সরকার নিজের নামের স্টিকার লাগিয়ে চালু করতে পারেনি সেগুলি রাজ্যে লাগু হতেই দেয়নি। অর্থাৎ যে স্কিমে তৃণমূল স্ক্যাম করতে পারেনি সেই সব প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন রাজ্যের মানুষ।
এদিন বাঁকুড়ার সভায় বক্তব্য রাখতে উঠতেই জনসভায় মানুষের ভিড় দেখে আপ্লুত মোদী বলেন আপনারা কি ব্রিগেডের সাথে কম্পিটিশন করছেন? যত দূরে নজর যাচ্ছে শুধু মানুষ আর মানুষ। তিনি বলেন, লোকসভা নির্বাচনে দিদি ও তার দল নানা ভাবে আটকাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে, মানুষ চুপচাপ পদ্মে ছাপ দিয়েছে। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান জোরসে পদ্মে ছাপ দিতে। কারণ গত ১০ বছরে পরিবর্তনের নামে তৃণমূল সরকার শুধু ঠকিয়েছে। এবার বিজেপির হাত ধরে আসল পরিবর্তন আসছে।
মোদী বলেন, দিদি বুঝতে পারছেন মানুষের সমর্থন তার দিক থেকে সরে গেছে। আর সেই রাগ তিনি তার উপর উগড়ে দিচ্ছেন। মোদী বলেন, দেওয়াল লিখনে দিদির দল ছবি আঁকছেন মোদীর মাথাকে ফুটবল আকার দিয়ে তাতে লাথি মারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদী দাবি করেন, বাংলার মানুষের এই ধরণের সংস্কৃতি বা রুচি নয়। দিদির এই কাজ বাংলার মানুষের সংস্কৃতি বোধে আঘাত করে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাকে দিদি লাথি মারলে মারুক, কিন্তু আমি কিছুতেই দিদিকে বাংলার উন্নয়নে লাথি মারতে দেব না।”
মোদী তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন,”কেন বাংলার মা বোনেরা পানীয় জল পাওয়া থেকে বঞ্চিত? কেন সব বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছানো যায় নি? কেন জলের অভাবে কৃষকরা এক ফসলের উপর নির্ভরশীল? কেন কোনো পরিকল্পনা নেই,কেন বিনিয়োগ নেই,কেন কর্মসংস্থান নেই। ” তিনি বলেন, “দিদি শুধু ফাঁকা ঘোষণা করে গেছেন একের পর এক। আর এখন বলছেন খেলা হবে। আমি বলছি খেলা এবার শেষ হবে আর উন্নয়ন শুরু হবে।”
মোদী বলেন, কংগ্রেস, কমিউনিস্ট ও তৃণমূল মিলে বাংলার ৩-৪ প্রজন্মের ভবিষ্যত নষ্ট করে দিয়েছে। তাই এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ডবল ইঞ্জিনের সরকার এলে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতি লাগু হবে। গ্রামে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হবে,হেলথ সেন্টার হবে, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। তিনি রাজ্যের কৃষকদের প্রতিশ্রুতি দেন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান প্রকল্পের ১৪ হাজার টাকা তাদের আ্যাকাউন্টে ডুকবে যা থেকে মমতা সরকার তাদের বঞ্চিত করে রেখেছে। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে গরীব মানুষের জন্য করা সব স্কিম কার্যকর হবে, সেখানে তৃণমূলের স্ক্যামের কোনো সুযোগ থাকবে না। মোদী অভিযোগ করেন তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের যে যে স্কিম গুলো থেকে কোনো স্ক্যাম করার সুযোগ পায়নি সেগুলো রাজ্যে লাগু করেনি।
মোদী আশ্বাস দেন আত্মনির্ভর ভারত গঠনে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বালুচুরি শাড়ি, টেরাকোটা শিল্প, ডোকরা শিল্প, বাঁশ- কাঠের শিল্প ও সম্ভাবনাময় স্থানীয় পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদের সরকার।

