আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির কাছে বামেরা অচ্ছুত নয়: সৌমিত্র

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর, ৯ নভেম্বর: মায়াবতী, জয়ললিতা, লালু প্রসাদকে জেল খাটতে দেখেছি, তাই মুখ্যমন্ত্রীও জেল খাটবেন। শুধু সময়ের অপেক্ষা। মঙ্গলবার দুর্গাপুরে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের রাঢ়বঙ্গ জোনের বৈঠকে এসে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। শুধু তাই নয়, আগামী পঞ্চায়েতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের সঙ্গে হাত মেলাতেও অনিচ্ছুক নয় বিজেপি, প্রকারন্তে সেটাও বুঝিয়ে দিলেন তিনি। আর তার এই মন্তব্য আবারও শোরগোল পড়ল রাজনৈতিক মহলে। 
আগামী ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে দুর্গাপুর সহ বেশ কয়েকটি পুরসভার নির্বাচন ঝুলে রয়েছে। ইতিমধ্যে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়া গেরুয়া শিবির নতুন করে সংগঠন মজবুত করতে নেমেছে। বুথস্তর থেকে জেলাস্তর এবং আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলায় জেলায় পর্যবেক্ষক কমিটি গঠনও শুরু করেছে। নির্বাচনে লড়াইয়ের ইস্যুও তৈরী করেছে গেরুয়া শিবির। মুলত রাজ্যজুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় দুর্নীতি টেট কেলেঙ্কারীকে হাতিয়ার করে আসর কাঁপাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। এদিকে দেনায় জর্জরিত রাজ্যের নাভিশ্বাস দশা। তার ওপর ঘাড়ের কাছে নিশ্বাস ফেলছে ডিএ মামলা। আপাতত সেইদিকে মুখিয়ে বিজেপি।

প্রায়ই বিজেপির তাবড় নেতৃত্বের মুখে আগামী ডিসেম্বর ডেটলাইনের একটা ইঙ্গিত শোনা যায়। প্রশ্ন তাহলে কি সেটাই সঠিক হতে চলেছে? যদিও এদিন দুর্গাপুরে দলের কর্মসূচীতে এসে আরও একটু খোলসা করলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, “দান, খয়রাতিতে রাজ্যের কোষাগার সঙ্কটে। রাজ্যকে যদি আরও ১০ হাজার কোটি টাকা লোন না দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের সমস্ত দফতরে তালা পড়বে। বেতন দিতে পারবে না। সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি।”

তিনি আরও বলেন, “লোনের পরিমান ৬ লক্ষ কোটি টাকা পেরিয়ে যাওয়া পর, একটা রাষ্ট্রের পক্ষে একটা রাজ্যকে আর নতুন করে লোন দেওয়া কঠিন। কারন ৬ লক্ষ কোটি টাকা লোনের পরিমান পেরিয়ে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কা ডুবে গেছে।” এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে কড়া ভাষায় আক্রমন করে বিষ্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “ইডি, সিবিআইয়ের ওপর ভরসা আছে। মায়াবতী, জয়ললিতা, লালু প্রসাদকে জেল খাটতে দেখেছি। তাই মুখ্যমন্ত্রীও জেল খাটবেন। এটা একদিন হবেই। সময়ের শুধু অপেক্ষা।

একইরকমভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “প্রতি সপ্তাহে ভাইপো বন্দ্যোপাধ্যায়কে লটারি কোম্পানি থেকে ১০ কোটি টাকা তোলা দেওয়া হয়। রানীগঞ্জে কয়লা লিফটিংয়ে টন প্রতি ৬০০ টাকা তোলার মধ্যে ৩০০ টাকা ভাইপো বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যায়।”

নন্দকুমার সমবায় নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে বিজেপির গাঁটছড়ার বাঁধা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এদিন আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে আঁতাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তণমূল বনাম আমরা সবাই। তৃণমূলকে হারাতে যারা আসতে চায় সঙ্গে আছি।” তবে পঞ্চাায়েত নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলেন, “২০১৮ সালে তৃণমূলের সন্ত্রাসের জবাব ২০১৯ সালে লোকসভায় দিয়েছে। আবারও ২০২৪ সালে তৃণমূল জবাব পেয়ে যাবে। বিজেপি পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য তৈরী। প্রতি বুথে ৩০ জন করে কর্মী প্রার্থী হতে তৈরী।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *