জাতীয় সরোবরের স্বীকৃতি পায়নি সাহেব বাঁধ, পুরুলিয়া পৌরসভায় অবস্থান বিক্ষোভ বিজেপির, পুরভোটের আগে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৬ ডিসেম্বর: সাহেব বাঁধের “জাতীয় সরোবর” তকমা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে পুরুলিয়া পৌরসভায়। এই অভিযোগ তুলে শ্বেত পত্র প্রকাশের দাবি জানাল বিজেপি। এই নিয়ে পুরুলিয়া পৌরসভা কার্যালয়ে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।

এদিন বিজেপির পুরুলিয়া শহর মন্ডলের উদ্যোগে স্থানীয় জুবিলি ময়দানে জমায়েত হন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। সাহেব বাঁধের ফাইল লোপাটের অভিযোগ তুলে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে পুরুলিয়া পৌরসভার মূল গেটে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। পরে পৌর প্রধানের কাছে পুরুলিয়ার সাহেব বাঁধের জাতীয় সরোবরের তকমা সংক্রান্ত ফাইল ও ভুয়ো কর্মী সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় বিজেপি শহর মন্ডলের পক্ষ থেকে।

এদিনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জেলা সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙ্গা, কার্যকর্তা রাজেশ কাটারুকা, পুরুলিয়া শহর বিজেপি (দক্ষিণ মন্ডল) সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারী, মহিলা মোর্চার জেলা সভানেত্রী কাবেরী চ্যাটার্জি সহ অন্যান্যরা।

বিজেপির অভিযোগ, সাহেব বাঁধ জাতীয় সরোবরের নাম করে বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা চুরির প্রমাণ লোপাটের জন্য ফাইল গায়েব করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাহেব বাঁধের “জাতীয় সরোবর” তকমা রয়েছে কি না সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করছে পৌরসভা।

যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন পৌরসভার প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি। তাঁর অভিযোগ, “যদি সাহেব বাঁধ সংক্রান্ত ফাইল লোপাট হয়ে থাকে এবং সাহেব বাঁধ যদি জাতীয় সরোবরের তকমা পেয়ে থাকে, তাহলে সেই সংক্রান্ত ফাইলের কপি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছেও থাকা উচিত। সেই ফাইল পুরুলিয়া পৌরসভায় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পৌর প্রশাসক।

২০০৯ সালে কংগ্রেসের আমলে সাহেব বাঁধ “জাতীয় সরোবরের” তকমা পেয়েছিল বলে দাবি করেছেন তৎকালীন কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা বর্তমানে তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর বিভাস রঞ্জন দাস। তিনি অবশ্য এই সংক্রান্ত ফাইল পৌরসভায় রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

তবে পুরুলিয়া পৌরসভায় সাহেব বাঁধ জাতীয় সরোবর সংক্রান্ত ফাইল উধাও নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে তা পরিষ্কার। কোথায় সেই ফাইল? কতো টাকাই বা বরাদ্দ হয়েছে সাহেব বাঁধের উন্নয়নে? উন্নয়নের কাজই বা কি হয়েছে সাহেব বাঁধ সরোবরে? এই সব প্রশ্নই দানা বেঁধেছে পুরুলিয়া পৌরসভায়।

পুরুলিয়ার সাহেব বাঁধ জাতীয় সরোবরের স্বীকৃত পাওয়ার জন্য দিল্লিতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করেছিলেন কংগ্রেস জেলাসভাপতি নেপাল মাহাতো। প্রাক্তন এই বিধায়ক জানান, “সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের থেকে জাতীয় সরোবর গড়ে তোলার জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকা জাতীয় সরোবর স্বীকৃত পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়েনি পরবর্তী পুর বোর্ড। পর পর দু’বার পূর্ণ সময়ের বোর্ড গঠন করেও জাতীয় সরোবর স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি। যদিও বিজেপি এখন ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। পুরসভার ওদের দুই কো-অর্ডিনেটরের মধ্যে একজন বিধায়ক। এই বিষয় নিয়ে চুপ করে আছেন কেন?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *