সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৬ ডিসেম্বর: ভুয়ো অস্থায়ী কর্মী ও এই দুর্নীতিতে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পুরুলিয়া পৌর প্রশাসকের কাছে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। দলের পুরুলিয়া শহর মণ্ডলের উদ্যোগে ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ জন কর্মী সমর্থককে নিয়ে পৌরভবনের ঢোকার মূল গেটে বসে পড়েন নেতারা। তাঁদের পরে থাকা অ্যাপ্রনে ১০০ জন ভুয়ো কর্মীর সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়।
পৌরসভায় ১০০ জন অস্থায়ী ভুয়ো কর্মীর হদিশ পায় বর্তমান প্রশাসনিক বোর্ড। সেই ভুয়ো কর্মীর নাম দিয়ে গত প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে যে বা যারা মাসে মাসে টাকা তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে ও যারা এই দুর্নীতির সাথে যুক্ত রয়েছে সেই দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। পরে বর্তমান চেয়ারম্যানকে একটি স্মারকলিপি দেয় বিজেপি।

পুরুলিয়া পৌরসভায় ২৩ টি ওয়ার্ড। স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা হাতে গোনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাম আমল থেকেই অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করে আসছেন। ২০১১ সালের পর আরও বেশ কয়েকশো অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়। এই মুহূর্তে ১৬৫০ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। পৌর বোর্ড শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন পৌর প্রশাসক হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতা নবেন্দু মাহালিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সরেজমিনে গিয়ে বেশ কিছু অস্থায়ী কর্মীদের দেখতে পাননি, তখনই তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এই সব কর্মীরা পৌরসভার কোনও কাজে যুক্ত নেই। অথচ, মাসে মাসে এই সব কর্মীরা বেতন হিসেবে টাকা তুলে নিয়ে যায়। খোঁজ শুরু হতেই এখনো পর্যন্ত ১০০ ভুয়ো কর্মীর হদিশ পাওয়া যায়। আগামীদিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান বর্তমান প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান।
পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি বলেন, এখনো পর্যন্ত ১০০ জন অস্থায়ী কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যারা মাস গেলে বেতনের টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তারা পৌরসভার কোনও কাজে যুক্ত নেই।
দলীয় কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া বিজেপির পুরুলিয়া শহর মণ্ডল সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারী বলেন, ৫ দিনের মধ্যে সুরাহা না হলে অবস্থান বিক্ষোভ করব আমরা।

