আমাদের ভারত, ৭ সেপ্টেম্বর: বাগুইআটিতে ২ মাধ্যমিক ছাত্রকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে বিজেপি রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী শ্রীমতি তনুজা চক্রবর্তির নেতৃত্বে বাগুইহাটি থানা ঘেরাও করে দলীয় কর্মীরা। বেলা গড়ালে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি তুলে সরব হন।

পুলিশের বিরুদ্ধে জোড়া খুনের ঘটনায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে আজ সকাল থেকে মহিলা মোর্চার নেতৃত্বেই বিক্ষোভ হয় বাগুইআটি থানার সামনে। তাদের অভিযোগ, মমতার দলদাস পুলিশ সক্রিয়তা দেখায়নি বলেই দুই ছাত্রের এই করুন পরিণতি হয়েছে। তারা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন পরিবার অপহরণের অভিযোগ করা সত্বেও কেন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিল না পুলিশ? কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার পরেও কেন স্বক্রিয়তা দেখা গেল না? বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে মৃতদেহ পড়ে রইল আর মাত্র ৫৫ কিলোমিটার দূরে থাকা বাগুইআটি থানার পুলিশ এটা জানতে পারল না কেন? নিহত পরিবারের এক আত্মীয় বলেছেন পুলিশকে এতদিন ঘুমাচ্ছিল।
এদিকে বেলার দিকে এই বিক্ষোভে সামিল হন শুভেন্দু অধিকারী। বাগুইআটি কাণ্ডে রাজ্য সরকারের দিকে প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তার দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের শোকজ সাসপেন্ড নয় তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি সিআইডির বদলে সিবিআই তদন্ত চেয়েছেন বিরোধী দলনেতা। দুই পরিবারকে আইনি সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া নবান্ন অভিযানের পর বাগুইআটির ঘটনা নিয়ে বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেট ঘেরাও অভিযানের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হুঁশিয়ারি, “রাজ্য সরকার অবিলম্বে সিবিআই তদন্তের অনুমতি দিক। রবিবার পর্যন্ত দেখবো, না হলে জনস্বার্থে কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা করা হবে।”

উল্লেখ্য, গত মাসের ২২ তারিখে বাগুইআটির জগতপুর খালপাড়ের বাসিন্দা অতনু ও অর্জুনপুরের বাসিন্দা অভিষেক নস্কর নামে দুই ছাত্র বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর তাদের পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ চেয়ে মেসেজ আসে। বিষয়টি নিয়ে দুই ছাত্রের পরিবারের তরফে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ পুলিশ কোনো রকম ভাবে সাহায্য করেনি অপহৃত দুই ছাত্রকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে। সোমবার রাতে পুলিশের তরফে জানানো হয় অতনু দে ও অভিষেক নস্কর নামে নিখোঁজ দুই ছাত্রের দেহ পাওয়া গেছে বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে। মঙ্গলবার ২ ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা তাদের দেহ শনাক্ত করেন। ঘটনায় পুলিশের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দুই ছাত্রের পরিবার ও এলাকাবাসী। জানাগেছে, দুই ছাত্রের মধ্যে একজনের দেহ উদ্ধার হয় ২৩ আগস্ট আরেকজনের দেহ উদ্ধার হয় ২৫ আগস্ট। তারপর থেকে দেহ দুটি বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকলেও পুলিশের খোঁজ পেতে এতদিন সময় কেন লাগলো?
অতনু দে বাইক কেনার জন্য সত্যেন্দ্র চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা দেয়। পরে আরো টাকা দাবি করে সত্যেন্দ্র। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করে অতনু। এরপর ২২ আগস্ট বাইক কেনার জন্য অতনু ও অভিষেক নস্করকে ডেকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যায় সত্যেন্দ্র চৌধুরী। তারপর থেকে অতনু অভিষেক দুজনেই নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশের দাবি, এরপরই খুন করা হয় দুই ছাত্রকে। অতনু অভিষেক সম্পর্কের মামাতো পিসতুতো ভাই। ২৪ আগস্ট বাগুইআটি থানায় অপহরণের অভিযোগ করে অতনুর বাবা বিশ্বনাথ দে। তার ফোনে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ ম্যাসেজ আসতে থাকে।

