সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ অক্টোবর: দামোদর নদের উপর নির্মিত দুর্গাপুর ব্যারেজের রাস্তার অবস্থা বেহাল। জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্ত। এই গর্তগুলিতে কচু গাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিজেপি।

রাজ্যের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক পথটি হল ৯ নং রাজ্য সড়ক। দক্ষিণবঙ্গের মেদিনীপুর থেকে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ২ নং জাতীয় সড়কে এসে মিশেছে এই সড়ক পথটি। ২৪ ঘন্টা যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। এই সড়ক পথের উপরেই রয়েছে দামোদর নদের দুর্গাপুর ব্যারেজ। ব্যারেজে ৫৮টি লকগেট দিয়ে আটকানো ডিভিসির জলাধার। এই ব্যরাজের উপর সেতু নির্মাণ করে ডিভিসি তা তুলে দেয় রাজ্য সরকারের হাতে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দামোদর নদের এই সেতুটি বেহাল হয়ে পড়েছে। জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্ত। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে সেই গর্তগুলি বেরিয়ে পড়েছে। তার উপর ইট পাথরের টুকরো দিয়ে মেরামতির কাজ শুরু হয়। আর তা দেখেই বিজেপি নেতারা দুর্গাপুর ব্যারেজের উপরেই বসে পড়ে অবরোধ শুরু করেন। খানাখন্দগুলির উপর কচু গাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান। এই বিক্ষোভ প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেন বড়জোড়া মন্ডল-১ এর সভাপতি গোবিন্দ ঘোষ, বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ কর, প্রবীণ বিজেপি নেতা উদয় চন্দ্রাধূর্য্য।

গোবিন্দ ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, সেতুর সংস্কারের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের সেচ ও পূর্ত দফতরের। কিন্তু বছর বছর টাকা বরাদ্দ হয় মজবুত মেরামতির জন্য, কিন্তু সঠিক ভাবে মেরামতি না করে জোড়াতাপ্পি দিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ কাটমানি হিসেবে সোজা কলকাতায় চলে যায়। সোমনাথ কর বলেন, সড়ক পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যারেজের রাস্তায় খানাখন্দে ভরে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ক্রমশই বাড়ছে। রাস্তার গর্ত বুঁজিয়ে সংস্কার করা হলেও জল জমে রাস্তাটি আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেতুর সংস্কারের কাজ শুরু না হলে তারা ফের অনির্দিষ্ট কালের জন্য বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন সোমনাথ কর।
বিজেপি নেতা উদয় চন্দ্রাধূর্য্য বলেন, এদিন আমরা প্রতীকি ভাবে আধঘন্টার জন্য দুর্গাপুর ব্যারেজে অবরোধ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

