সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৫ নভেম্বর: কয়লা সহ খনিজ সম্পদ অবৈধ উত্তোলন বন্ধের দাবিতে রঘুনাথপুর মহকুমা শাসকের উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি দিল বিজেপি। তার আগে বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয় রঘুনাথপুরে।
এক সময় লালার হাত ধরে রঘুনাথপুর মহকুমা জুড়ে অবৈধ কয়লার কারবার চলত এখন পুলিশের হাত ধরে চলছে অবৈধ কারবার এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। অবৈধ কয়লা, বালি সহ একাধিক অবৈধ কারবার বন্ধ করার দাবিতে রঘুনাথপুর মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন স্থানীয় দলীয় কার্যালয় থেকে এই প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়ে রঘুনাথপুর শহর পরিক্রমা করে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে শেষ হয়। মিছিলে পা মেলান রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও জেলা বিজেপির সভাপতি বিবেক রাঙ্গা সহ একাধিক পদাধিকারী ও কার্যকর্তারা।

এদিন জ্যোতির্ময় বাবু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কিছু পুলিশ কর্মীদের অসৎ কাজ করার জন্য বাধ্য করছেন উচ্চস্তরের পুলিশ আধিকারিকরা। তাই যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিক এই অবৈধ কারবারের সাথে জড়িত রয়েছেন তাঁদের আগামী দিনে কারাগারে থাকতে হবে।”
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই জেলা জুড়ে ১৫ টি কয়লা সহ লরি আটক করেছে পুলিশ। ওই লরিতে থাকা ২৫০ মেট্রিক টনের বেশি অবৈধ কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সাথে পুরুলিয়ার মফস্বল থানার ঘোঁঘা এলাকা থেকে দুটি কয়লা বোঝাই ট্রাক আটক করে পুরুলিয়ার মফস্বল থানার পুলিশ। ওই গাড়ি গুলিতে কয়লা বোঝাই থাকলেও তার কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় দুটি গাড়ির চালককে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়। সাত দিনের পুলিশ হেফাজত হয় তাদের। এছাড়া রঘুনাথপুরে ২ টি, হুড়ায় ৪ টি, জয়পুরে ৩ টি ও সাঁওতালডি থানা এলাকায় ৪ টি কয়লা বোঝায় লরি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি বলেন, “আমাদের এই অভিযান চলবে। বেশ কিছু গাড়ি এবং প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
পুলিশের কয়লা বাজেয়াপ্ত নিয়ে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং বলেন, “কয়লা পাচার আগেও চলত, এখনও চলছে। যেটা পুলিশ দেখাচ্ছে তার কয়েক গুণ বেশি প্রতিদিন পাচার হচ্ছে।”

