বর্ধমানের সাঁকোতে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরানোর অভিযোগ, অভিযুক্ত তৃণমূল

আমাদের ভারত, বর্ধমান, ২০ এপ্রিল: বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় পূর্ব বর্ধমান জেলার সাঁকো গ্রামে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

গতকাল গভীর রাতে খন্ডঘোষ বিধানসভার সাঁকো গ্রামে বিজেপির একটা দলীয় কার্যালয়ে আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। রাতের দিকে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু মানুষের বসবাস আছে। ভয়ে আতঙ্কে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা দেখেন দাউদাউ করে জ্বলছে বিজেপির দলীয় কার্যালয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ গত বৃহস্পতিবার পঞ্চম দফার নির্বাচনের সময় এই এলাকায় নির্বাচন হয়। ওইদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ঝামেলা বেধে যায়। তারপরেই বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে এলাকার পুরুষেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ওই এলাকার মানুষজন বিজেপিকে সমর্থন করায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গ্রামের মহিলাদের ধর্ষণ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সোমবার সন্ধের দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কিছু কর্মী সমর্থক সেখানে জড়ো হয়েছিল। এরপরেই রাতের দিকে দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির চকদিঘি মোড় এলাকায় বাসুদেব দে নামে এক ব্যক্তির চায়ের দোকানে ভাঙ্গচুর চালানোর অভিযোগ উঠলো তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।

বাসুদেব দে বলেন, আমার চায়ের দোকানে প্রতিদিন বিজেপি তৃণমূল সহ অন্যান্য মানুষজন চা খেতে আসেন। সেখানে রাজনৈতিক আড্ডা চলে। মঙ্গলবার দোকানের একটি বাঁশ পচে যাওয়া সেই বাঁশ পালটানোর কাজ করছিলাম। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা কাজ করতে বাধা দিলে তাদের সঙ্গে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। তখন তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করে এবং দোকান ভাঙ্গচুর চালায়।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে এদিন দোকানে চা খেতে গিয়ে তর্কবিতর্ক শুরু হলে বাসুদেব দে নামে ওই ব্যক্তি তাদের দলের কর্মীকে ছুরি মারতে যায়। ফলে ঝামেলা বাধে।

স্থানীয় বিজেপি নেতা আজিজুর রহমান বলেন বাসুদেব দে নামে চায়ের দোকানের মালিক কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। ওই দোকানে আমরা নিয়মিত চা খেতে যাই। সেই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসের আক্রোশ গিয়ে পড়ে তার উপর। এটা নোংরা রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *