আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৫ জুন: মনোনয়নের শেষ দিনেও সন্ত্রাসের আবহে কাটল বীরভূম। থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে আক্রান্ত হলেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্যাসী চরণ মণ্ডল ওরফে অষ্টম। সাঁইথিয়া ব্লকের আমোদপুরেও মারধর করা হয়েছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের মাড়্গ্রামেও বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বীরভূমের সাঁইথিয়া ব্লকের আমোদপুরে। সকাল ১০ টার দিকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিজেপির আমোদপুর পার্টি অফিসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ হাজির হলে পিছু হঠে দুষ্কৃতীরা। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা এবং ইট পাথর ছুঁড়তে থাকে। এমনকি বিরোধীরা ব্লক অফিসের ভিতরে ঢুকে মনোনয়ন জমা দিতে গেলে তাদের ভোটার কার্ড, মনোনয়নপত্র কেড়ে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসক দলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।
নানুর ব্লকে ১২ জনকে মনোনয়ন জমা দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্যাসী চরণ মণ্ডল ওরফে অষ্টম। ব্লক অফিসের কাছেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা দুটি গাড়ি ভাঙ্গচুর করে। মারধর করা হয় অষ্টমবাবুকে। রেহাই পাননি মহিলা প্রার্থীরাও। প্রাণ বাঁচাতে সকলে গাড়ি থেকে নেমে ছুটে পালিয়ে যায়।
বোলপুর লোকসভার কনভেনর অর্জুন সাহা বলেন, “দুটি গাড়িতে কীর্নাহার থেকে ছয়জন প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ব্লক অফিসে। ব্লকের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে গাড়ি আটকে সকলকে মারধর করা হয়। ভাঙ্গচুর করা হয় দুটি গাড়ি। ঘটনার পর নানুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অষ্টমবাবু। বিকেলের দিকে বোলপুর হাসপাতালে চিকিউসা করান তিনি।
বোলপুরেও বিরোধীদের আটকানো হয়। ব্লক অফিসের কিছুটা দূরত্বে বিরোধীদের মারধর করা হয়। সেই ছবি তুলতে গিয়ে আক্রন্ত হন সাংবাদিক সন্তু হাজরা। তাকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের মাড়গ্রামে ব্লক অফিস দখল করে রাখে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে গেলে পুলিশের সামনেই তাদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়।
তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিরোধীরা কিছু জায়গায় প্ররোচনার সৃষ্টি করায় অশান্তি বাধে। তবে নানুরে বিজেপির সভাপতিকে মারধরের ঘটনায় আমাদের কেউ যুক্ত ছিল না। ওটা দুষ্কৃতীদের কাজ। পুলিশ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক”। তবে সাংবাদিককে মারধরের খবর জানেন না বলে এড়িয়ে যান মলয়বাবু।

