নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নাম না থাকায় গোঁসা বিজেপি সাংসদের বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের

সুশান্ত ঘোষ, বনগাঁ, ২১ মার্চ: নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করায় বিজেপির সমালোচনা করলেন বিজেপি সংসদ শান্তনু ঠাকুরের বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। তিনি বলেন, আমাদের পছন্দের একটাও প্রার্থী করেনি বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ৩০টি আসন দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু মতুয়াদের একটি আসনও দেওয়া হয়নি৷ এতে ক্ষিপ্ত মতুয়া ভক্তরা। আগামী দিনে তারা কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা মতুয়ারা ঠিক করবেন।

এক সময় নিজের বড় ছেলে সুব্রত ঠাকুরকে তৃণমূল টিকিট না দেওয়া মন্ত্রিত্ব ও দল ছেড়ে ছিলেন মঞ্জুলবাবু। বনগাঁ লোকসভার উপ-নির্বাচনের আগে বড় ছেলে সুব্রতকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভার উপ-নির্বাচনে ছেলের ভরাডুবির পর থেকে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে মঞ্জুলবাবুর দূরত্ব বাড়ে। এরপর তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে তৃণমূলে ঢোকার আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও গুরুত্ব দেননি মঞ্জুলবাবুকে। ২০১৯ বিজেপি টিকিট দেয় মঞ্জুল কৃষ্ণের ছোট ছেলে শান্তনু ঠাকুরকে। নরেন্দ্র মোদীর উপর আস্থা রেখে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের মানুষ জয়ী করেন শান্তনু ঠাকুরকে। তারপর থেকে সিএএ নিয়ে দলের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় শান্তনুর। বিজেপির অনেক শীর্ষ নেতা মান ভাঙাতে শান্তনুর বাড়ি আসেন। সম্প্রতি ঠাকুরনগরে অমিত শাহর সভারপর বিরোধ কাটলেও ফের ঠাকুরবাড়ি থেকে দাবি করেন তাঁদের মনোনীত ৩০ টি বিধানসভায় প্রার্থী দিতে হবে। দলের এক অংশের অভিযোগ, সাংসদ হওয়ার পর কয়েকটা সভায় শান্তনুকে দেখা গিয়েছে। নিজের স্বার্থে দলকে ব্লাকম্যাল করে বনগাঁ জেলা করেছে, বলে দলের অন্দরে অভিযোগ।আরও অভিযোগ, শান্তনু ঠাকুর দলের কর্মীদের সঙ্গে সেই ভাবে কোনও দিন সময় দেননি। কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ও তাঁর পরিবার নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে মতুয়াদের নিয়ে দলের সঙ্গে রাজনীতি করছে। দলকে ব্লাকমেল করছে। মতুয়ারা বিজেপির সঙ্গেই আছে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *