অভিনব প্রতিবাদ! বিধানসভায় চা ঘুঘনি ঝালমুড়ি বিক্রি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ বিজেপি বিধায়কদের

আমাদের ভারত, ২২ সেপ্টেম্বর: রাজ্য বিধানসভার বাইরে ঘুগনি মুড়ি চায়ের স্টল দিয়ে প্রতিবাদে সামিল হলেন বিজেপি বিধায়করা। রীতিমতো হাঁক পেড়ে খোদ্দের ডাকতে দেখা গেছে তাদের।

বৃহস্পতিবার শহর কলকাতায় বিধানসভার মূল ফটকের গায়ে ফুটপাত ঘেঁষে এই বেনজির দৃশ্য দেখল শহরবাসী। ঠেলার উপর পসরা সাজিয়ে দাঁড়িয়ে বিজেপি বিধায়করা থার্মোকলের বাটিতে ঘুগনি ঢেলে বিক্রি করল। বেশ কয়েকজনকে মশলাপাতি দিয়ে ঝালমুড়ি বানিয়ে দিলেন অনেকে। রাজ্য বিধানসভার বাইরে এমন দৃশ্য কেউ কখনো দেখেনি।

পুজোর আগে রাজ্যের বেকার যুবকদের চা ঘুঘনি বিক্রি করার যে পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই অভিনব উপায়ে বেছে নিয়েছেন বিজেপি বিধায়করা।

অগ্নিমিত্রা পাল, মনোজ টিগ্গা বিধানসভার বাইরে একজোট হয়ে ঘুগনি মুড়ি চা বিক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। “আমার খোকা লুটবে বঙ্গ, করবে দেদার চুরি। তোমার খোকা বেচবে পুজোয় ঘুগনি ঝাল মুড়ি” এমনই রকমারি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে তারা প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন।

এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন কেটলি, চেয়ার টেবিল কিনে চা ঘুঘনি বিক্রি করতে। বলেছিলেন এক হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কোটিপতি হওয়া যায়। আমাদের রক্তে কয়লা বালি পাথর, ছুঁড়ি নেই। বড় ধরনের দুর্নীতি করতে পারব না। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পথ দেখিয়েছেন কিভাবে কোটিপতি হওয়া যায়।” তার মতে বাংলায় শিক্ষিত যুব সমাজকে ঘুগনি বিক্রি করতে বলে আসলে মুখ্যমন্ত্রী তাদের অপমান করেছেন।

অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “দিদিমণি বলেছেন তো ঝাল মুড়ি চা বিস্কুট বিক্রি করে কোটিপতি হওয়া যায়। মাকে বলেছি বড় কেটলি কাগজের কাপ কিনে দিতে। আমরা বিজেপি বিধায়ক। তাই বলে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের মতো কোটিপতি কি হতে ইচ্ছে করে না? একেবারেই লজ্জা নেই তাই তো বিক্রি করতে নেমেছি।”

তিনি আরো বলেন, “২০২১ সালে বলেছিলেন, দ্বিগুণ চাকরি দেবেন তাহলে কি ঝাল মুড়ি বিক্রির কথা বলেছিলেন। এই যে এত আয়োজন বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলন, সবাইকে এমনি এমনি খেয়ে চলে গেলেন? সব কি লোক দেখানো?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *