সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৭ ফেব্রুয়ারি: সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। তৃণমূল নেতারা ভোটের আগে ভয় দেখাতে গেলে বা ভোটের দিন ভোট লুট করতে গেলে জুতো পেটা করবেন। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এলাকায় বিজেপির আয়োজিত এক রক্তদান শিবির থেকে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের এমনই নিদান দিলেন বনগাঁর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। যা ঘিরে শোরগোল এলাকায়। মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে শাসক দল।
সোমবার সন্ধেয় গাইঘাটা থানার ডুমা গ্রাম পঞ্চায়েতের দিঘা এলাকায় বিজেপির একটি রক্তদান শিবিরের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে অংশগ্রহণ করে স্বপন মজুমদার বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এবং বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এমনই বার্তা দেন। যদিও এই বিষয়ে স্বপন মজুমদার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ২০১৮ সালে দেখেছি বাগদা, বনগাঁ, গাইঘাটাতে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে রক্ত ঝড়িয়ে কি ভাবে পঞ্চায়েতগুলোর দখল নিয়েছে। তার সাক্ষী গোটা রাজ্য। যদি কেউ ভোট লুট করতে আসে, তাহলে কি আমরা বসে থাকবো? আমি সেই কথাটাই বলেছি যে, যদি কেউ ভোট লুট করতে আসে, তাহলে তাকে বাধা দেওয়া এবং শায়েস্তা করার জন্য প্রয়োজনে জুতো ব্যবহার করবেন। স্বপনবাবু বলেন, সরকারি প্রকল্প সে কেন্দ্রের হোক বা রাজ্যের, তার অধিকার সকল মানুষের। সাধারণ মানুষের জন্য দুই সরকার এই প্রকল্পগুলি করেছে। কোনো নেতা এই প্রকল্প গুলো ঘর থেকে দিচ্ছে না। তাই তাবেদারি দেখাবেন না। আর সামনেই পঞ্চায়েত ভোট, কোনো নেতার চোখ রাঙ্গানিতে ভয় পাবেন না। আমি বলছি না আপনি বিজেপিকেই ভোট দেবন। যাকে ভালো লাগবে তাকেই ভোট দিন। যদি কেউ ভয় দেখাতে আসে তাদের জুতো পেটা করবেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন স্বপন মজুমদার। কখনও তিনি পুলিশকে এনকাউন্টার করতে, কখনও দরজা ভেঙ্গে বিডিওকে মারধর করতে, আবার কখনও ডাঙ্কা, কাঁসর দিয়ে তৃণমূল নেতাদের মুখে আঘাত করার নিদান দিয়েছেন। শেষ সংযোজন জুতো। গাইঘাটার তৃণমূল নেতা বিপ্লব দাস বলেছিলেন, “এটাই বিজেপির কালচার। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকলে মানুষ এমন মন্তব্য করে৷”

