পান্ডবেশ্বরের কৈলাশপুরে বিজেপি সংখ্যালঘু নেতার বাড়ি ভাঙ্গচুর, আগুন, গুলি চালানোর অভিযোগ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৩ এপ্রিল: ফের উত্তপ্ত পান্ডবেশ্বর। বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার নেতার বাড়িতে ভাঙ্গচুর, আগুন, গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল। সোমবার এই ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল পান্ডবেশ্বর বিধানসভার কৈলাসপুর গ্রামে। খবর পেয়ে আক্রান্ত নেতার বাড়িতে যান বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী। তিনি অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন তৃণমূলের দিকে। যদিও অভিযোগ, অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

ভোটগ্রহনের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত খনি অঞ্চল। দুদিন আগে প্রচারে গিয়ে বিজেপিকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এবার বিজেপির সংখ্যালঘু নেতার বাড়িতে ভাঙ্গচুর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে ঘিরে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়েছে পান্ডবেশ্বর বিধানসভার কৈলাশপুর গ্রামে।

ঘটনায় জানা গেছে, আক্রান্ত ওই বিজেপি নেতা শেখ ইয়ানুর। তাঁর বাবা শেখ ইয়াসুদ্দিন বলেন, “দুদিন আগে প্রার্থী প্রচারে আসার জন্য গ্রামে দলীয় পতাকা টাঙিয়ে ছিলাম এবং প্রার্থী প্রচারে এসেছিল। সোমবার গভীর রাতে আচমকা গুলির আওয়াজ শুনতে পাই। পরে দেখি বাড়িতে বেশ কিছু লোক ভাঙ্গচুর শুরু করেছে। বিদ্যুতের লাইনের সুইচ বন্ধ করে অন্ধকার করে দিয়েছিল গ্রাম। তারপর এভাবে আক্রমণ শুরু করে দুস্কৃতীরা। বাড়ির জিনিসপত্র সব তছনছ করে দিয়েছে। তাতেও রেয়াত দেয়নি। আগুন ধরিয়ে দেয় ঘরের ভেতর। তারপর যাওয়ার সময় আবার গুলি চালায়।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর ফরিদপুর থানার পুলিশ। পৌঁছায় পান্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী। তিনি বলেন, “গতকাল প্রচার করে গেছি। বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার ৪ নং মন্ডলের সভাপতি ইয়ানুর ভালো সংগঠক। এলাকায় মুসলিম ভাইয়েরা এগিয়ে আসছে বিজেপিতে। তাই তৃণমূল ভোটের আগে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় দলীয়কর্মীর বাড়ি ভাঙ্গচুর এবং আগুন ধরিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তৃণমূলের পায়ের নিচে মাটি নেই। তৃণমূলের মানুষের ওপর ভরসা নেই। তাই সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়ছে। আমরা পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছি।”

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লক সভাপতি সুজিত মুখার্জি বলেন, “মিথ্যা অভিযোগ। বিজেপি নিজেরা এলাকায় সন্ত্রাস করছে। আর মিথ্যা দোষারোপ করছে তৃণমূলের দিকে। মানুষ এর জবাব দেবে।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *