অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ৯ মে: গোপীবল্লভপুরের রাজনৈতিক আকাশে একপ্রকার নক্ষত্র পতন হল।মারা গেলেন এলাকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা বিজেপির গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর মন্ডল কমিটির সভাপতি নগেন সিং। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। নগেন সিংয়ের মৃত্যুতে শোকাহত তাঁর দলের নেতা কর্মীরা।
জানাগেছে, কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে
নগেনবাবু ভর্তি ছিলেন গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। পরে রবিবার সকাল ৫টা নাগাদ মৃত্যু হয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। পরে তাঁর মৃতদেহ তাঁর কেন্দুগাড়ির অঞ্চলের ছোটো তাড়কীর বাড়িতে নিয়ে গেলে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাড়িতে আসেন ঝাড়গ্ৰামের সাংসদ কুনার হেমব্রম, বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অবনী ঘোষ সহ স্থানীয় বিজেপির নেতা কর্মীরা।

অপরদিকে খবর পেয়েই নগেন সিংকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন নয়াগ্ৰাম বিধানসভার বিধায়ক তথা ঝাড়গ্ৰাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু, গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হেমন্ত ঘোষ, সত্যরঞ্জন বারিক, রঞ্জিত মহাকুল প্রমুখ।
বিজেপি নেতা নগেন সিংয়েরর মৃত্যুতে তাঁর দল বিজেপি থেকে শুরু করে তৃণমূল সবাই স্বীকার করছেন গোপীবল্লভপুরের রাজনীতিতে অপরিসীম ক্ষতি হল। ১৯৮৬ সাল থেকে টানা তিন বারের গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের কেন্দুগাড়ি ৭ নম্বর অঞ্চলের পঞ্চায়েত প্রধান থাকার পাশাপাশি দু’বার গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচিত হন। বরাবরই আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের জন্য লড়াই করে গেছেন নগেন সিং। প্রথম জীবনে ঝাড়খন্ড দলের রাজনীতি এবং শেষ জীবনে দুবারের জন্য বিজেপির গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর মন্ডল কমিটির দায়িত্ব সামলে প্রতিষ্ঠান বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন নগেন সিং। তবে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শারিরীক অসুস্থতার কারণে বিজেপি নেতা নগেন সিং খুব বেশি সক্রিয় না থাকার কারণে হয়তো তাঁর নিজের অঞ্চল থেকে বিজেপির থেকে অনেকটাই এগিয়ে থেকেছেন তৃণমূল প্রার্থী।

