BJP, Shantipur, দল বিরোধী কাজের অভিযোগ, শান্তিপুরে বহিষ্কৃত বিজেপির মন্ডল সভাপতি

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৬ মার্চ: শান্তিপুরে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে। নির্বাচন ঘোষণার আগেই দল বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কৃত গবারচরের বিজেপি সদস্য তথা এলাকার মন্ডল সভাপতি। আর বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে বিজেপি। ১৪ তারিখ ব্রিগেড ময়দানে সভা করতে এসে সেই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। কিন্তু ভোট যুদ্ধের আবহে কিছুটা ভিন্ন চিত্র শান্তিপুর ব্লকে। অভিযোগ, গবারচর এলাকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য তথা এলাকার মন্ডল সভাপতিকে দল বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করেছে দল। যদিও বহিষ্কৃত মন্ডল সভাপতির দাবি, গত প্রায় ৬ মাস আগে তাকে মন্ডল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি নির্বাচনী কমিটি তৈরির ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরব হয়েছিলেন তিনি। আর সেই কারণেই হয়ত এই পদক্ষেপ। এখন এই বহিষ্কারের বিষয় ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাই দেখার।

শান্তিপুর শহরের গবারচর মাঝের পাড়ার মন্ডল সভাপতি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস জানান, “তিনি গবারচরের বেল দুয়ের সদস্য। তিনি ভোটে নির্বাচিত হয়ে জেতেন। তার কিছুদিন পর তাকে মন্ডল সভাপতি হিসেবে দল থেকে ঘোষণা করে। তখন থেকে তিনি মন্ডল সভাপতি হিসেবে দলের হয়ে কাজ করেন। দল যা দায়িত্ব দেয় তা তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে পূরণ করার চেষ্টা করেন।”

গৌরাঙ্গবাবুর অভিযোগ, “মন্ডল স্তরে তার কাছে কোনো সূচনা আসার আগেই তা দলীয় সূচনা মারফৎ তার নিম্নস্তরের দলীয় কর্মচারীদের কাছে পৌঁছে যেত। মন্ডল সভাপতি থেকেও দল তাকে গুরুত্ব না দিয়ে অসহযোগিতা করেছে।” তার আরোও অভিযোগ, “তিনি এ বিষয়ে নদিয়া দক্ষিণের জেলা সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী এবং নদিয়া দক্ষিণের সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের কাছ থেকেও কোন সুরাহা পাননি।”

গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের শোকজ প্রসঙ্গে সাংসদ-জগন্নাথ সরকারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, “তিনি একজন জন প্রতিনিধি। তিনি এ বিষয়ে কিছু মন্তব্য করবেন না।” সরাসরি তিনি জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী’কে বারংবার ফোন করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি বিপ্লব কর জানান, “এটা দল বিরোধী নয়, গৌরাঙ্গবাবু সংসদ জগন্নাথ সরকারের বিরোধী। কারণ রানাঘাট লোকসভায় জগন্নাথবাবু যেটা মনে করবেন সেটাই ঠিক। তিনি কাকে দায়িত্ব দেবেন, কাকে দায়িত্ব দেবেন না, কাকে সাসপেন্ড করবেন, কাকে সাসপেন্ড করবেন না তার সঙ্গে কাকে আগামী দিনের প্রজেক্ট করবেন তা সবই সংসদ জগন্নাথ সরকার করেন। এখানে পার্টির কোনো সিস্টেম নেই। বিগত দিনেও আপনারা দেখেছেন যে ওনার উপর বিক্ষোভ দেখিয়ে বিজেপি কর্মকর্তারা তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করেছে। এই গৌরাঙ্গ বাবু যাকে ব্লক সভাপতি করেছিলেন সে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি করতেন। আজকের দিনে আমরা দেখছি তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার কারণ তিনি জানেন যে জগন্নাথ বাবু কিছু খারাপ কাজ করছেন। আর তার প্রতিবাদ হয়তো তিনি করেছিলেন। বিগত দিনেও প্রতিবাদ যখন কেউ করেছেন, জগন্নাথ বাবুর বিরুদ্ধে তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাকে সরিয়ে দিয়েছেন।

এছাড়াও বিপ্লব বাবু আরো অভিযোগ করেন যে, “সম্প্রতি একজন শক্তি কেন্দ্রিক প্রমুখকে সেলাই মেশিন দেবে বলে তার ছবি তোলা হয়। আদৌ বিক্রি করে দিয়েছে না কি করেছে উনিই জানেন। যখন মিটিং হয় সাংসদের সামনে প্রতিবাদ করে ছেলেটি বলে যে আমার সেলাই মেশিনের ছবি তুললেন আমার সেলাই মেশিন কোথায়? তখন তাকেও পার্টি থেকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। আপনারা খবর নিয়ে দেখতে পারেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *