BJP, Nadia, TMC, বিজেপি নেত্রী হিরণ্ময়ী সরকারের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ, অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩ মার্চ:
২৫ নম্বর জেলা পরিষদ সদস্যা হিরণ্ময়ী সরকারের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ। যা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক মহলে। নদিয়া জেলার ৮৩, কৃষ্ণনগর উত্তরের ১৮২ নম্বর বুথের পাকুরগাছি গ্রামের বাসিন্দা হিরন্ময়ী সরকার।

জানা যায়, জেলা পরিষদের সদস্যা হিরণ্ময়ী সরকার বিজেপির সদস্যা ছিলেন। বিজেপি নেত্রী হিরন্ময়ী সরকার অভিযোগ করেন যে, “তৃণমূল উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে তার নামটা ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দিদির সরকারি কর্মচারীরা কাজ করেন। দিদি দিদির মতন কাজ করিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, এখানে যারা ছুটকো ছাটকা নেতা আছে তারা বোম, বন্দুক, পিস্তল দেখিয়ে বিএলও’কে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছে। তারা চাপ দিয়েছে আধিকারিকদের। আমার নামটা বাদ দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য সফল করেছে।

তিনি বলেন, এখানে এতদিন ধরে বিজেপি জিতে আসছে তাই ওদের বুকে ভয় ঢুকেছে। কারণ তৃণমূলের এখানে অস্তিত্ব নেই। অস্তিত্বের লড়াইয়ে এখন যা খুশি ওরা তাই করবে। বিজেপির উত্থানে তৃণমূল ভয় পেয়ে গেছে। এস আই আর- এর জন্য দিদির ভোট ব্যাঙ্ক হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, এস আই আর হওয়াতে দিদি এতটাই আতঙ্কিত যে রাতে তিনি হয়তো ঠিক করে ঘুমাতেও পারছেন না।”

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যকরী সদস্য কুনাল চৌধুরী বলেন, “এস আই আর যেটা নির্বাচন কমিশন করছে এখন এটাকে সারা ভারতবাসী নাম দিয়েছে “নির্যাতন কমিশন”। মানুষকে কিভাবে নির্যাতন করতে হবে তা নির্বাচন কমিশন দেখিয়ে দিল এস আই আর প্রক্রিয়ায়। বিহারে করেছে, পশ্চিমবাংলায় করেছে, আবার গুজরাটেও চলছে। পশ্চিমবাংলায় এস আই আর করতে গিয়ে কতজন বিএলও মারা গেছেন তার দায় নির্বাচন কমিশন নেননি। কিন্তু সেই একই কারণে বি এল ও গুজরাটে মারা গেছেন সুইসাইড করেছেন। তাহলে নির্যাতন কমিশনের যে অত্যাচার সেই অত্যাচারে অত্যাচারিত হওয়ার পরও তাদের কাছে সময় ছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেস বন্দুক গুলি নিয়ে গিয়ে তাদের ভয় দেখাবে এবং বিজেপির লোকেদের নাম কাটাবে? বিজেপির নিজেদের কমিশন “নির্যাতন কমিশন” সেই কমিশন এসআইআর করেছে, সেই কমিশন লক্ষাধিক মানুষের নাম বাদ দিয়েছে বিনা কারণে। আমার জানা অনেক জন আছে যাদের তিনটে ছেলে, তিন ছেলেরই নাম কাটা গেছে। তাদের বাবার নামও আছে। বি এল ও অজুহাত দিচ্ছে যে তাদের বাবার নামে ছয় জনের বেশি সন্তান আছে। তাই তাদের তিনজনের নাম বাদ। এটা “নির্যাতন কমিশনের” একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তারা সুন্দরভাবে রাজ্যবাসী বা দেশবাসীকে কিভাবে হেনস্থা করতে হবে বা নির্যাতন করতে হবে সেটা দেখিয়ে দিয়েছে।

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতে ঘুম হচ্ছে না, না বিজেপির রাতে ঘুম হচ্ছে না, যে মতুয়াগড়ে লক্ষাধিক মতুয়ার নাম বাদ গেছে। এমনকি বিজেপির জেলা পরিষদের সদস্যের নাম বাদ গেছে। তাহলে ঘুমটা কার হচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, না বিজেপির?”

নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মিডিয়া কনভেনার সন্দীপ মজুমদার জানান, “নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। তারা এসআইআর পশ্চিমবাংলায় করছে। এরকম কিছু ভুল ত্রুটির জন্য বেশ কিছু মানুষের নাম বাদ গেছে। কিন্তু এই নামগুলোর মধ্যে যাদের সঠিক কাগজপত্র আছে, যারা ভারতীয়, তাদের নাম নির্বাচন কমিশন তুলে দেবেন। জেলাশাসকের কাছে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে তাদের একটা অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে। সঠিক কাগজপত্র থাকলে অবশ্যই তাদের নাম উঠে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী যারা, তাদের নাম ভারতীয় ভোটার লিস্ট থেকে বাদ যাবে। এটা নির্বাচন কমিশন যেমন বলছে আমরাও সেই রকম কথাই বলছি। অপরদিকে ভারতীয়দের যদি কোনো পদ্ধতিগত সমস্যা থেকে থাকে তাহলে তাদের নাম উঠে যাবে ভোটার লিস্টে। নির্বাচন কমিশন তাঁদের কাজ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতা- কর্মীর নাম বাদ গেছে। তারা বিজেপির নামে অভিযোগ করছে যে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। আমরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করছি না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, যদি কারোর নাম বাদ গিয়ে থাকে সঠিক প্রক্রিয়ায় সেই নাম গুলো উঠে যাবে।”

পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যকারী সদস্য কুনাল চৌধুরী নির্বাচন কমিশনকে নির্যাতন কমিশন বলে কটাক্ষ করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন কাজে রাজ্যের প্রশাসন তো কাজ করছে এজন্য তো কেন্দ্রীয় বা ভিন রাজ্য থেকে এসে তো কেউ কাজ করছে না। তাহলে তাদের বিডিও, তাদের এসডিও, তাদের ডিএম তারাও নির্যাতন করছে। তাহলে মমতা ব্যানার্জি ব্যর্থ। কারণ এখানে তো অন্য রাজ্য থেকে এসে কেউ কাজ করছে না। এখানকার বিডিও, এসডিও, ডিএম, এরাই তো কাজ করছে। এখানকার বিএলও রাজ্য সরকারি কর্মচারী। তাহলে তারা নির্যাতন করছে। আর মমতা ব্যানার্জি চোখ বন্ধ করে ঘুমোচ্ছেন। যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে উনি অ্যাকশন নিন”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *