সুন্দরবন অঞ্চলে জীবন রক্ষাকারী ম্যানগ্রোভ নির্বিচারে কেটে ফেলার অভিযোগে সরব বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি

আমাদের ভারত, ২১ মার্চ: ১৯৯৯ সালের পর আমফান ছিল বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া অন্যতম ভয়াবহ সুপার সাইক্লোন। গত ১০০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের উপর আছড়ে পড়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ের নাম আমফান। কিন্তু এই ঝড় প্রবল শক্তিশালী হওয়ার পরও পশ্চিমবঙ্গে ঠিক যতটা ক্ষয়ক্ষতি করতে পারত তার চেয়ে কিছুটা হলেও কম হয়েছে। তার কারণ সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। এই অরণ্য ঝড়ের গতি অনেকটা কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল।‌ কিন্তু সেই ম্যানগ্রোভ অবলীলায় কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক শ্রেণীর মানুষের উপর। বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজির অভিযোগ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ শাসকদলের মদতে এই ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলছে।

সুন্দর বন অঞ্চলে ভূমি ও সমুদ্রের মধ্যে একটির বাফার জোন রচনা করে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। মানুষ তথা প্রকৃতিক স্বার্থেই এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। উপকূলবর্তী পরিবেশ ও মানুষের সুরক্ষায় এই ম্যানগ্রোভের অবদান রয়েছে বিপুল। ম্যানগ্রোভকে ন্যাচারাল কোস্টাল ডিফেন্স মনে করা হয়। বড় বড় ঝড়, সুনামী, ভূমিক্ষয়, সমুদ্রস্তরের উত্থানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর এই ম্যানগ্রোভ।পরিবেশের কার্বনকে শুষে নেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভের কার্যকরিতা কোন বিকল্প নেই। অথচ
সুন্দরবনের গোসাবা আমতলী ও ছোট মোল্লাখালী বাজার সংলগ্ন নদীর তীরে ম্যানগ্রোভ পরিষ্কার করা ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক শ্রেণীর মানুষের বিরুদ্ধে। সামনেই বর্ষাকাল আসছে এই ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের ফলে এই এলাকার মানুষের উপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কড়াল থাবা পরা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পরছে বলে মনে করছেন বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি।

বিজেপি নেতা টুইট করে অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের শাসকদলের মদতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের এভাবে নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ কাটার ফলে গোসাবা আমতলী, ছোটো মোল্লাখালি সহ সুন্দরবনের একাধিক জায়গার মানুষ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়বে। আর বন্যায় অসহায় গরীব মানুষ তার ভিটেমাটি হারাবে” ।

একই সঙ্গে দেবদত্ত মাজি আরও অভিযোগ করেন, এরপর প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য বিজেপি শাসিত সরকার যে টাকা পাঠাবো রাজ্যের শাসক দলের নেতারা সেই টাকা নিজেদের পকেটে ভরবে। এই টুইটটিতে তিনি কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভুপেন্দ্র যাদবকেও ট্যাগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন অবিলম্বে পরিবেশ রক্ষাকারী এই ম্যানগ্রোভ ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। নাহলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপদের মুখে ইচ্ছাকৃত ঠেলে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *