আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৩ সেপ্টেম্বর: বিজেপির কর্মীদের সংগঠিত করে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রাক্তন সেনাকর্মীর উপর হামলা। এই প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রক্তাক্ত বিজেপি কর্মী তথা প্রাক্তন সেনাকর্মী সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। যদিও এই হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এক ব্লকের নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আলামচক বেলদা গ্রামে।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, পটাশপুর এক নং ব্লকের নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অনন্ত মাইতি সক্রিয় বিজেপি কর্মী। অনন্ত মাইতি প্রাক্তন সেনা কর্মী এবং বর্তমানে একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। অনন্ত মাইতি গ্রামে বিজেপির হয়ে নেতৃত্ব দেন। রবিবার সকাল ন’টা নাগাদ ভাইয়ের বাড়ি থেকে বাড়ি ফিরছিল অনন্ত মাইতি। তখনই বাড়ি থেকে বেশ কিছু দূরে তৃণমূল আশ্রিত বেশ কয়েকজন গুন্ডা বাহিনী অনন্ত মাইতিকে ঘিরে ধরে। আর গ্রামের বিজেপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলে দুষ্কৃতি যুবকরা অনন্ত মাইতির উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ বিজেপির। দুষ্কৃতিরা লোহার রড, পাইপ, ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে রাস্তার উপর ফেলে সেখান থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। পুরো ঘটনাটি পুলিশের সামনে ঘটে বলে বিজেপির অভিযোগ। এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বিজেপি কর্মী এখন সঙ্কটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী জানান, গ্রামে বিজেপির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই অনন্ত মাইতির উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। অনন্ত মাইতি এলাকায় বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিল। গ্রামে বিজেপিকে নেতৃত্ব দিত। অনুপ চক্রবর্তী আরও বলেন, শাসক দলের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। তাই বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডা বাহিনীকে সহযোগিতা করছে পুলিশ প্রশাসন। মানুষ যোগ্য জবাব দেবে। এই সমন্ত অভিযোগ উড়িয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র মধুরিমা মন্ডল জানান, এটি পুরোপুরি মিথ্যে অভিযোগ। সকালে দলবল নিয়ে আসে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালায় বিজেপি কর্মীরা। পূর্ব মেদিনীপুর শান্তির জেলা। বিজেপির কিছু দুষ্কৃতি এই জেলাকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।আমাদের জেলার মানুষ যোগ্য জবাব দেবে।
পটাশপুর থানার ওসি চন্দ্রকান্ত শাসমল জানান, যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।

