স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৮ জানুয়ারি: ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের দেশ ব্যাপি কর্মসূচি ভারত জোড়ো যাত্রা এসে পৌছল উত্তর দিনাজপুর জেলায়। বুধবার সকালে এই জেলার যাত্রা শুরু হয় জেলার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ইটাহার ব্লক থেকে। সেখানে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত, আলী ইমরান রমজ সহ দলের অন্যান্য শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভারত জোড়ো যাত্রার প্রথম দিনে এই পদযাত্রা ইটাহার থেকে শুরু হয়ে রায়গঞ্জ শহরে এসে শেষ হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রার দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এই যাত্রা ইসলামপুর মহকুমার কানকিতে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে রাত্রি যাপনের পর তৃতীয় দিন অর্থাৎ শুক্রবার পদযাত্রাটি জেলার উত্তর প্রান্তের চোপড়া ব্লকে গিয়ে শেষ হবে। এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, বিগত নির্বাচনে কংগ্রেস ভালো ফল করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও এই জেলায় হাজার হাজার মানুষ পদযাত্রায় সামিল হচ্ছেন। মানুষের অন্তরে এখনও কংগ্রেস রয়েছে। সেই অন্তরের ভালোবাসাকে জাগিয়ে তুলতেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন দলের নেতা রাহুল গান্ধী। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে বিজেপি দেশের সর্বনাশ করছে, ধনী দরিদ্রের মধ্যে বিভাজন করছে, আঞ্চলিকতাবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমাদের দল এই সমস্ত বিভাজনকে দূরে ঠেলে রেখে সকলকে এক হওযার ডাক দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলায় ২৮ দিনের এই কর্মসূচিতে সাগর থেকে পাহাড় পর্যন্ত ৮০০ কিলোমিটার যাত্রা শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। এই যাত্রা সোমবার উত্তরবঙ্গের মালদা জেলা থেকে শুরু হয়েছে।
এদিন রায়গঞ্জ শহরে এই পদযাত্রা ঢোকার পর পায়ের ব্যাথায় কিছুটা সমস্যায় পড়েন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি রাস্তার পাশের একটি দোকানে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে ফের পদযাত্রায় সামিল হন। এদিনের কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পদযাত্রার ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট পথসভা করেন অধীরবাবু। তিনি তাঁর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এনআরসির জুজু দেখিয়ে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
অন্যদিকে, এদিন অধীরবাবু তার বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বর্তমান রাজ্য সরকারেরও। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কোনো কথাই তিনি বলেননি। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস দল পক্ষান্তরে সমর্থন করে বিজেপিকে।

