নীল বণিক, আমাদের ভারত, কলকাতা, ৪ মে:
কৈলাস, শিব প্রকাশ সরানোর জন্য জোট বাঁধছেন রাজ্য বিজেপির সিংহভাগ নেতা। রাজ্য থেকে তাদের সরাতে জেপি নাড্ডার কাছে দরবার করতে পারেন বিজেপি নেতাদের একাংশ। এছাড়া প্রদীপ জোশির বিজেপিতে হস্তক্ষেপ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।
কৈলাস বিজয়বর্গীয় বিগত পাঁচ বছর ধরে রাজ্যের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট বন্টনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। রাজ্য বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, আদি নেতাদের থেকে নবাগত নেতাদের ভরসা করতেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজ্য বিজেপি নেতার কোথায় টলিউডের এক অভিনেত্রী বিজেপিতে যোগদান করার দু’দিন পর হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হলেন! কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে? শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি, পায়েল সরকারদের মত অভিনেত্রীদের কেন তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে প্রার্থী করা হলো? এই উত্তর অনেকেই কৈলাস বিজয়বর্গীয় কাছে চাইছেন।
অন্যদিকে শিব প্রকাশের কাছ থেকে উত্তর চাইছেন দলের আাদি কর্মীরা। হুগলী জেলা থেকে এক মহিলা নেত্রীকে উত্তর ২৪ পরগণা থেকে কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী করা হলো? টিকিট বন্টনে তাঁরও ভূমিকা ছিল। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই বহু আদি বিজেপি কর্মী বসে গিয়েছিলেন। তাদের মানভঞ্জনে কেন শিবপ্রকাশের মত নেতারা দৌড়ালেন না তানিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
দলের একাংশের দাবি, বিজেপির বহু বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছিলেন আরএসএসের কর্মকর্তা প্রদীপ জোশি, যা দলের কনো কাজে লাগেনি। এই নিয়েও ক্ষোভ জমেছে।
কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা মনে করেছিলেন মোদী মুখে ভরসা করে ত্রিপুরার মত বাংলায় জয় আসবে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে জেলা সভাপতি থেকে মন্ডল সভাপতিদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিজেপির সম মনোভাবাপন্ন কয়েকটি গণসংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এই সমস্ত গণসংগঠনগুলি থেকে একজনকেও প্রার্থী করা হয়নি। যানিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ জমেছিল, যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ভোটবাক্সে পড়েছে বলে মনে করছেন বিজেপির একাংশ।

