জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ এপ্রিল: ‘ভোট আসে, ভোট যায়। গালভরা প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। জোটেনি ১০০ দিনের কাজ। আবাস যোজনার বাড়ি জুটলেও ‘কাটমানি’ দিতেই ফতুর। বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে মাথায় হাত আদিবাসী উপভোক্তাদের। শুধু তাই নয় বন্ধ বার্ধক্যভাতা। এমনই নজিরবীহন বঞ্চনার শিকারের অভিযোগ পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার আদিবাসী গ্রামে। ভোটের আগে ক্ষোভে ফুঁসছে কাঁকসার জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা। আর ওই অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে প্রচারে নেমেছেন বিজেপির দুর্গাপুর পুর্বের প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী।
গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের আদিবাসী অধিষ্যুত এলাকায় ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। ভুল শুধরাতে খোদ দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসরে নেমেছিলেন। একাধিক প্রকল্পও ঘোষনা করেন। কিন্তু গত দু বছরেও সেই চিত্র বদলায়নি বলে অভিযোগ। জঙ্গলমহলের আদিবাসী এলাকা সেই তিমিরেই।
কাঁকসার গোপালপুর পঞ্চায়েতের চাতালডাঙা, মনিরকোঁদা, করমডাঙ্গা এলাকায় হাজারখানেক পরিবারের বসবাস। জঙ্গলের শালপাতা বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করে। ভোট আসে ভোট যায়। উন্নয়নের ফিরিস্তি শুনে ক্লান্ত গোটা জঙ্গলমহল। ছিঁটেফোটাও জেটেনি সেই উন্নয়নের। বুধবার ওইসব গ্রামে জনসম্পর্কের প্রচারে যান বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী। গ্রামে ঢুকতেই তাঁকে ধামসা মাদোল বাজিয়ে বরন করে নেন আদিবাসীরা। বিজেপি প্রার্থীকে কাছে পেয়ে অনুন্নয়ন আর বঞ্চনার ক্ষোভ শোনালেন বাসিন্দারা। চাতালডাঙ্গায় শ’দুয়েক পরিবারের বসবাস। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ” শিশুশিক্ষা কেন্দ্র থাকলেও বন্ধ। প্রসুতি ও শিশুদের বরাদ্দ খাবারের সামগ্রীটুকুও জোটে না।এক’শ দিনের কাজ সেভাবে জোটেনি। পানীয় জলের অবস্থা তথৈবচে। ৫ কেজির বদলে ২ কেজি করে চাল, গম রেশনে মিলছে। প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার বাড়ির অনুমোদন হলেও, গত একবছরে অসম্পুর্ন। অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে নির্মিয়মান বাড়ি।”
রুপি মুর্মু, মনি মুর্মু, রূপাই হাঁসদা, রূপী সোরেন প্রমুখ বাসিন্দার অভিযোগ, “প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকতেই শাসকদলের নেতারা ১০ হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছে। ব্যাঙ্কে নিয়ে গিয়ে সাইকেলের চাবি কেড়ে রেখেছিল। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে দেওয়ার পর চাবি ফেরত দিয়েছিল। বাকি টাকায় বাড়ি কিভাবে তৈরী হবে?” বাসিন্দারা জানান, “নেতাদের চোখরাঙানিতে ভয়ে কিছু বলতে পারিনি।”

দীপ্তাংশু চৌধুরী বলেন,” দিদি বলছে এত উন্নয়ন হয়েছে, জঙ্গলমহল হাসছে। এই তো তাঁর নমুনা। পরিবর্তন এমন হয়েছে, বার্ধ্যকভাতাও বন্ধ করে দিয়েছে জঙ্গলমহলের মা’য়েদের। এখনও পিঁপড়ের ডিম সেদ্ধ করে খায়। রেশনের বরাদ্দ চালটুকুও জোটে না। দেখলেই চোখে জল আসছে।” তিনি বলেন, “কেন্দ্র সরকারের আর্থিক সহায়তায় কাাঁকসায় দুুুটি স্কুল চলে। চারবছর আগে রাজ্যের তরফে স্কুলগুলি বন্ধের নির্দেশিকা জারি হয়েছে। বছর চারেক আগে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বহু আদিবাসী মেয়ে আবেদন করে আইনের জাঁতাকলে কন্যাশ্রী পায়নি। সর্বোপরি রাজ্য সরকার আদিবাসীদের জমির পাট্টা দিতে সম্পুর্ন ব্যর্থ। উল্টে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে জঙ্গলের অধিকার।”
ভোটের আগে জঙ্গলমহলের ভোট কোন পথে, যেমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তেমনই সমর্থন পেতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যে জঙ্গলমহলে পদ্ম ফুটতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে অলিচিকি ভাষায় দেওয়াল লিখন। বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুুুরী বলেন, “আদিবাসী গ্রামের রাস্তা এখনও ঢালাই হয়নি। পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছে। মানুষের ভোটে আসেনি তৃণমূল। বাইরে থেকে চোর, গুন্ডা এনে ভোট করিয়েছে। মানুষ আর এদের কখনই ক্ষমা করবে না। তৃণমূলের ভুয়ো পরিবর্তন এবার উপড়ে ফেলবে জঙ্গলমহলের আদিবাসীরা। ২ মে আসল পরিবর্তনের সূর্যোদয় হবে। সেই অপেক্ষায় জঙ্হলমহল।”
এবিষয়ে তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গত ডিসেম্বর মাসে ওই গ্রামগুলিতে আদিবাসীদের নিয়ে দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওসব মিথ্যা অভিযোগ। বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে।”

