“রাজ্যে হাওয়া বিজেপির দিকেই” দাবি মমতার ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরের, শুনুন ফাঁস হওয়া বিস্ফোরক অডিও টেপ

আমাদের ভারত, ১০ এপ্রিল:বাংলায় এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। দিল্লির বেশ কিছু সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে ফোনালাপে এই স্বীকারোক্তি খোদ মমতার ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এই বিস্ফোরক অডিওটি টুইট করেছেন। অডিওতে প্রশান্তের গলায় শোনা যাচ্ছে বাংলার মমতার মতোই জনপ্রিয় মোদী। সমীক্ষায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটদাতারা বলছে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে বাংলায়। এমনকি বাম ভোটাররাও বিজেপিকে ভোট দিচ্ছেন। বাংলা নির্বাচনে মোদীর জনপ্রিয়তা, হিন্দিভাষী, এসসি-এসটি, মতুয়া এবং মেরুকরণে ফ্যাক্টর হচ্ছে বলে মনে করছেন পিকে।

নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের দিন মুখ্যমন্ত্রীর অডিও টেপ ফাঁস হয়েছিল। আজ চতুর্থ দফায় ভোটের দিন অডিও টেপ ফাঁস হলো মমতার ভোট কৌশলী তথা ভোট পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের। যদিও আমাদের ভারতের পক্ষ থেকে অডিও টেপ এর সত্যতা যাচাই করে দেখা হয়নি। এই অডিও ফাইল ভাইরাল হতেই এ হইচই পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

সেই অডিও টেপে শোনা যাচ্ছে দিল্লির বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে অফ রেকর্ড কথা বলছেন প্রশান্ত কিশোর। সেই কথোপকথনে বেশকটি বিষয় সহজে ব্যাখ্যা করেছেন প্রশান্ত কিশোর এরাজ্য ভোট নিয়ে। তার থেকে স্পষ্ট হচ্ছে তিনি বলতে চেয়েছেন বাংলায় এবার বিজেপির দিকেই হাওয়া। তাঁর কথায় বাংলায় নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা মমতার সমান সমান। বাংলায় বিজেপির ভোট ব্যাংক তৈরি হবার এটা অবশ্যই অন্যতম কারণ। তাঁর কথায় মোদী বাংলাতেও কাল্ট ফিগারে পরিণত হয়েছে। পিকে বলছেন নরেন্দ্র মোদীর সভায় লোক হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কিছুটা যেমন বিজেপি সংঘটিত করেছে, তেমন মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছে।

প্রশান্ত কিশোর বলেছেন মোদী বাংলায় জনপ্রিয়। বাংলায় এক কোটি হিন্দি ভাষাভাষী মানুষ রয়েছে। এদের বেশির ভাগটাই মোদী ভক্ত। এছাড়া দলিত(তফশিলি) ভোট রয়েছে ২৭ শতাংশ। এরা দৃঢ়ভাবে বিজেপির সঙ্গে রয়েছে। এর সাথে রয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণ। হিন্দুদের মনে হচ্ছে এতদিন পর এবার তাদের হয়ে কেউ কথা বলছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাও রয়েছে। এই ভোটে বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের সুবিধা পাবে।

কেন এই মেরুকরণে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে? অডিও টেপে পিকে বলেছেন, বাংলায় কুড়ি বছর ধরে নির্লজ্জ তুষ্টিকরণ হয়েছে। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল সবাই-ই তুষ্টিকরণ করেছে। কারণ তাদের কাছে সহজ হিসাব ছিল মুসলিম ভোট সঙ্গে থাকলেই জয় নিশ্চিত। কিন্তু এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মানে এটা নয় যে বাংলার সব হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছেন। কিন্তু নির্লজ্জ তুষ্টিকরণের কারণেই তাদের মনে হচ্ছে, কেউ তো রয়েছে তাদের জন্য কথা বলার।

পিকে বলেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে মানুষের। গত ১০ বছর বাংলায় ক্ষমতায় তৃণমূল। ফলে সরকার বিরোধী হাওয়া তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তাছাড়া যেভাবে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাতেও মানুষের রাগ তৈরি হয়েছে।

অডিও টেপে প্রশান্তকে বলতে শোনা শোনা গেছে, বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা রয়েছে। মানুষের তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাগ রয়েছে।

সরকার কে গঠন করবে জানতে চাইলে পিকে এই অডিও টেপে বলেছেন, বেশিরভাগ লোক বলেছে বিজেপি সরকার বানাবে। তার কারণ খতিয়ে দেখেছেন তিনি। এর কারণ হলো যারা বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে তারা তো বলছেই বিজেপি সরকার বানাবে। তা ছাড়া বামদের মে ১০-১৫ শতাংশ ভোট রয়েছে তাদেরও দুই-তৃতীয়াংশ বলছেন বিজেপি সরকার বানাবে। কারণ বামেদের মনে হচ্ছে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদের দোকান খুলে যাবে।

প্রশান্ত কিশোর বলেছেন বাইরে থেকে যারা আসে তাদের মনে হয় বাংলায় বিজেপির কর্মী নেই। কে বলেছে বাংলায় বিজেপি কর্মী নেই? দু’একটি জেলা বাদ দিয়ে বাংলার প্রতিটি জেলায় বিজেপির মজবুত সংগঠন তৈরি হয়েছে।

অডিও টেপে প্রশান্ত কিশোরকে বলা বলতে শোনা গেছে মতুয়াদের ৭৫ % বিজেপিকে ভোট দিতে পারেন। আর ২৫ শতাংশ ভোট দিতে পারে তৃণমূলকে।

এই আডিও টেপ ফাঁস হবার পর স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত বিজেপি। অন্যদিকে‌ কিছুটা হলেও কোনঠাসা পরিস্থিতি তৈরি হবে রাজ্যের শাসক দলের বলে বলে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *