সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৭ মার্চ: বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই বাঁকুড়া জেলার প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর ছাড়া বাকি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী শালতোড়া, ছাতনা, ওন্দা, ইন্দাস, সোনামুখীর জয়ী বিধায়কদের ফের প্রার্থী করা হয়েছে। বাঁকুড়া সদর কেন্দ্রে গতবারের বিজয়ী নিলাদ্রী দানাকেই প্রার্থী করা হবে কি না তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম যেমন ঘোষণা করা হয়নি, তেমনি বিষ্ণুপুর আসনেও প্রার্থী ঘোষিত হয়নি। রাইপুর, রানীবাঁধ, তালডাংরা ও বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষিত হয়েছে। শালতোড়ায় চন্দনা বাউরি, ছাতনায় সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, ওন্দায় অমরনাথ শাখা, কোতুলপুরে লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার, ইন্দাসে নির্মল কুমার ধারা, সোনামুখীতে দিবাকর ঘরামি, রাইপুরে ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা, রানীবাঁধে ক্ষুদিরাম টুডু, তালডাংরায় সৌভিক পাত্র ও বড়জোড়ায় বিল্লেশ্বর সিনহাকে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি প্রার্থী করেছে।শালতোড়া, ছাতনা, ওন্দা, ইন্দাস ও সোনামুখী কেন্দ্রে বিজেপি আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বদল করেনি।
বিগত নির্বাচনে জেলার ৮টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল বিজেপি প্রার্থীরা। কোতুলপুরে বিজেপির টিকিটে জয়ী ও পরবর্তীতে দলবদলু হরকালী প্রতিহারের জায়গায় লক্ষ্মীকান্ত মজুমদারকে প্রার্থী করা কয়েছে। পেশায় শিক্ষক লক্ষ্মীকান্তবাবু বিজেপির হয়ে ২০১৪ সালে এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি দলের পুরাতন কর্মী। রাইপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে ক্ষেত্রমোহন হাঁসদাকে। পেশায় কৃষক ক্ষেত্রমোহনবাবু ২০১১ সালে ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার প্রার্থী হয়ে বিধানসভায় লড়াই করেছিলেন। এই নির্বাচনে তিনি সিপিএম ও তৃণমূলের পর তৃতীয় স্থানে ছিলেন। চতুর্থ স্থানে থাকা বিজেপি প্রার্থীর দ্বিগুন ভোট পেয়েছিলেন। তালডাংরায় প্রার্থী করা হয়েছে সৌভিক পাত্রকে। বিজেপির তালডাংরা মন্ডল ৩ এর সভাপতি ও স্থানীয় বাঁশকোপার বাসিন্দা সৌভিকবাবু জয়পন্ডার ওপর সেতু তৈরি ও বালি চুরি রোধ আন্দোলনের প্রতিবাদী মুখ। সিমলাপাল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসাবেও জনপ্রিয়।
এই প্রেক্ষিতে উল্লেখ্য, গত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ উপ নির্বাচনে বিজেপির স্থানীয় প্রার্থী ছিল না বলেই দলের হার হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এবার স্থানীয় একজনকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। বিজেপির তালিকা থেকে স্পষ্ট যে এবার তারা কোনরকম ফাঁক রাখতে চাননি। স্থানীয় ও দলের প্রবীণদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

