রাজেন রায়, কলকাতা, ২ এপ্রিল: দ্বিতীয় দফায় নন্দীগ্রামের ভোট হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। আজ সকালে কমিশনে আসে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। তারপরেই নির্বাচন কমিশনে আসেন বিজেপির প্রতিনিধিদল। বিজেপির অভিযোগের মূলে গতকালের বয়াল কাণ্ড তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান। বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করছে, অবাধ নির্বাচন পরিচালনায় বাধা দিচ্ছে। পাশাপাশি শুক্রবার প্রার্থী দীপক হালদারের আহত হওয়ার ঘটনা নিয়েও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন বিজেপি নেতারা।
শিশির বাজোরিয়া বলেন, আমরা অতীতে কখনও দেখিনি, প্রার্থী নিজেই একটি বুথে গিয়ে দুঘণ্টা বসে রয়েছে। আর এখানে প্রার্থী খোদ তৃণমূল নেত্রী। এতে নন্দীগ্রামের ভোটদান প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে গিয়েছে।” তাঁর দাবি, প্রার্থী নিশ্চয়ই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, কিন্তু আইনভঙ্গের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এমন কিছু করতে পারেন না। এর উদ্দেশ্য একটাই ভোটের গতি শ্লথ করে দেওয়া।
শিশির বাজোরিয়ার আরও অভিযোগ, তৃণমূল বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে।” তথাগত রায় বলেন, ‘তৃণমূল যা করেছে তা ঠিক নয়। আমরা কমিশনে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি।’
নন্দীগ্রামের ভোটে সকাল থেকে শুভেন্দু অধিকারী বুথে বুথে ঘুরলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘর থেকেই গোটা বিষয়টিতে নজর রাখছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুপুর ১ টা ১৫ নাগাদ রেয়াপাড়ার ভাড়াবাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান বয়াল সাত নম্বর বুথে। সেখানে গিয়েই জনগণের বিক্ষোভে আটকে পড়েন। ক্ষোভ উগরে দেন পুলিশ অফিসারদের ওপর। যোগাযোগ করেন রাজ্যপালের সঙ্গে, ওখান থেকেই রাইটিং প্যাডে চিঠি লেখেন কমিশনে। আদালতে যাওয়ার কথাও শোনা যায় তাঁর মুখে। অভিযোগ করেন, বহিরাগতরা এই বুথে ভোটদান প্রক্রিয়া ব্যহত করেছে।
এদিকে তিনি আটকে থাকায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। আসরে নামেন নন্দীগ্রামের দায়িত্বে থাকা আইপিএস নগেন্দ্র ত্রিপাঠী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন এই অশান্তির পুনরাবৃত্তি হবে না। বাকি সময়টা স্বচ্ছভাবে ভোট হবে। তারপরেই জায়গা ছাড়েন মমতা। বিজেপির দাবি এভাবেই ভোটদান প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। সেই বিষয়েই তাঁরা অভিযোগ জানিয়েছেন কমিশনে।

