পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৮ নভেম্বর: বালুরঘাটের শিশু খুন কান্ড নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের ঘুড়ি ওড়ানোর তত্ত্ব একযোগে উড়িয়ে দিলেন শাসক ও বিরোধী সকলেই। সোমবার এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর পুলিশের যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে অপহরণ ও খুনের দাবিতে সরব হয়েছিলেন অনেক আগেই। একইভাবে সেই দাবিকে নস্যাৎ করে অপহরণ করেই খুনের জোড়ালো দাবি তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতিও। ওইদিন রাতে খুন হওয়া শিশুর পরিবারের সাথে কথা বলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এমনটাই জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, পুলিশ যে যুক্তি সামনে এনেছে ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে ঝামেলা, তা কোনোভাবে সঠিক নয়। সঠিকভাবে তদন্ত করুক এবং পুলিশই এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের ফাঁসির সাজা দিক।
উল্লেখ্য, বালুরঘাট শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের একে গোপালন কলোনি এলাকার আট বছরের শিশু দীপ হালদার শনিবার থেকেই নিখোঁজ হয়। রবিবার যার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। যে ঘটনা নিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শহরের ওই এলাকা। ঘটনায় মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তারো করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আর তারপরেই রবিবার রাতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘটনাকে ঘুড়ি উড়ানোর বিবাদ বলে ব্যাখ্যা করেন জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে। আর তাকে ঘিরেই কার্যত আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠে একে গোপালন কলোনী। যদিও পরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপেই স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। তবে পুলিশ সুপারের এমন যুক্তি এলাকার মানুষ তো নয়, শাসকদল তৃণমূল বা বিরোধী বিজেপি কেউই মানতে চাননি। তাদের প্রত্যেকের দাবি, অপহরণের জেরেই নৃশংস ভাবে খুন হয়েছে ওই শিশুটি।
এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর বিপুল কান্তি ঘোষ বলেন, ঘুড়ি ওড়ানোর তত্ত্ব সম্পূর্ণ মিথ্যে। শিশুটিকে অপহরণ করেই খুন করা হয়েছে। পুলিশ সঠিক কারণ বের করে উপযুক্ত সাজা দিক অভিযুক্তদের।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ঘুড়ি ওড়ানোর যে তত্ত্ব পুলিশ সামনে এনেছে তা সম্পূর্ণ একটি বানানো কাহিনী। পুলিশ তদন্ত করুক এবং সঠিকভাবে তদন্ত করুক। দোষীদের ফাঁসি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন পুলিশ প্রশাসন।

