Debjit Sarkar, BJP, অত্যাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক রাজ্যে অসহিষ্ণুতার অভিযোগ বিজেপি-র

আমাদের ভারত, ৯ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জন প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক অসহিষ্ণুতার অভিযোগ আনলো রাজ্য বিজেপি। সল্টলেক বিজেপি কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের একথা বলেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র অ্যাডভোকেট দেবজিৎ সরকার।

তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনায় শাসক দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে আসছে। অতীতে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ বেশি শোনা যেত, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষও একই ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

তিনি জানান, “সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির দিকে নজর দিলে দেখা যায়, উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক প্রাক্তন বিএসএফ কর্মীর স্ত্রীকে রাতের অন্ধকারে বাইক বাহিনী দিয়ে ঘিরে অপহরণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে এবং ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের নাম উঠে এসেছে।”

তিনি বলেন, “অভিযোগকারী থানায় এফআইআর দায়ের করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হন এবং পরে আদালতের নির্দেশের মাধ্যমে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় এগোয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এছাড়াও ব্যারাকপুরের মণিরামপুর এলাকায় এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে এক কাউন্সিলরের দুর্ব্যবহারের অভিযোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একইভাবে নদিয়া জেলার করিমপুরে এক বিধায়কের বিরুদ্ধে টিউশন থেকে ফেরার পথে পড়ুয়াদের মারধরের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যদি এই অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা জন প্রতিনিধিদের আচরণ ও শাসন ব্যবস্থার মানদণ্ড সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।”

তিনি বলেন, “বেলডাঙা এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নাবালক আহত হওয়ার পর তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক সংবেদনশীলতার অভাবকে সামনে নিয়ে আসে এবং মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ায়।”

তিনি উল্লেখ করেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকায় এক বিধায়কের বক্তব্যে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী এলাকায় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ রাখার হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে, যা গণতান্ত্রিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের করের অর্থ এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়—এই সুবিধা কোনো রাজনৈতিক সমর্থনের ভিত্তিতে দেওয়া বা বন্ধ করার অধিকার কারও নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।”

দেবজিৎ সরকার বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করছে যে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও শাসন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্রমশ কমছে। ক্ষমতার দম্ভ ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনি ও রাজনৈতিক উভয় স্তরেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।” সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে তিনি জানান, রাজ্য বিজেপি আগামী নির্বাচনের আগে একটি জনগণমুখী সংকল্পপত্র প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত সংগ্রহ করছে।”

তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতের সরকার জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতার জন্য তিনি দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, স্বচ্ছ, জনকল্যাণমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিজেপি তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *