আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ৩ এপ্রিল: ‘সবার জন্য বাড়ি’ (হাউস ফর অল), সিউড়ির তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই প্রকল্পে একশো কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মানুষের কাছে দুর্নীতির জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। এদিন শুধুমাত্র তৃণমূল প্রার্থী তথা সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচিত ওয়ার্ড থেকে দুর্নীতির তালিকা তুলে ধরেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯-২০, ২০-২১ এবং ২০-২২ অর্থবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর সবার জন্য বাড়ি প্রকল্পে সব থেকে বেশি দুর্নীতি হয়ে বলে বিজেপির দাবি। শুক্রবার একটি ছাপানো তথ্য দিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, এই প্রকল্পে গরিব মানুষের বাড়ির টাকা আত্মসাৎ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তৃণমূলের তল্পিবাহকদের ওই বাড়ি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা প্রকৃত প্রাপক তারা বঞ্চিত থেকে গিয়েছে। তথ্য দিয়ে জগন্নাথবাবু বলেন, “তিনটি অর্থবর্ষে সিউড়ি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হোসেন, অমিতা মণ্ডল, অর্চনা ভাণ্ডারী, ব্রজেশ্বর বড়াল, দিলীপ সেন, ফতেমা খাতুন, গোবিন্দ বাউরি, হাসিবুর রহমানদের মতো শতাধিক মানুষের নামে বাড়ি এসেছিল। কিন্তু পুরসভার চেয়ারম্যান, বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী প্রাপকদের বাড়ি দেয়নি। সেই টাকা অন্য কারও ব্যাঙ্ক আকাউন্ট ভাড়া নিয়ে তুলে নিয়েছে। গত পুরসভা নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে বন্ধুকের নল দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছিল। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল তৃণমূল প্রার্থী। ত্রিপল চোর, বাড়ি চোর, ভোট চোর তৃণমূল প্রার্থীর কাছ থেকে এর জবাব চাইছে মানুষ”।
অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “উনি যে অভিযোগ আনছেন তার প্রমাণ দিতে পারবেন তো? অহেতুক অশিক্ষিতদের মতো কথা বলছেন। কারণ ওই টাকা সরাসরি বেনিফিসিয়ারিদের অ্যাকাউন্টে ঢোকে। ফলে অন্য কেউ ওই টাকা তুলে নিতে পারবে না।”

