সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১ সেপ্টেম্বর: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বনগাঁ ব্লকের গোপালনগর চৌবেড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে ফের ক্ষমতায় বিজেপি। প্রধানের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা আনা হয়েছিল তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশে বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধানই বহাল থাকছেন।
বনগাঁর চৌবেড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ১৫। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি ৮ টি এবং তৃণমূল ৭ টি আসন পায়। পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্য মারা যান। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ জন, বিজেপির ৮ জন। কয়েকদিন আগে বিজেপির দুই সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করায় প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে তৃণমূল। এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে বিজেপি। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার তৃণমূলের আনা অনাস্থার ওপর ভোটাভুটি ছিল। কিন্তু তার আগেই হাইকোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করে।
বিজেপির পক্ষের আইনজীবী জাগৃতি মিশ্র জানান, বিজেপির দু’জন পঞ্চায়েত সদস্যকে তৃণমূল নিজেদের দিকে নিয়ে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিল। কিন্তু আমরা এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করি। কিন্তু ওরা নানা অজুহাত দেখিয়ে আদালতে আসছিল না, এমনকি আদালতের কপিও ওরা রিসিভ করছিল না। গতকাল অনাস্থার বিরুদ্ধে ভোটাভুটির জন্য পঞ্চায়েতে মিটিংয়ে ডেকেছিল, ১২টায় মিটিং এর কথা ছিল কিন্তু তার আগেই ১১.৪৫টায় হাইকোর্ট ওই পঞ্চায়েতে ডাকা মিটিং এবং অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। বিচারপতি জানিয়ে দেন বিজেপির প্রধানই কাজ চালিয়ে যাবেন।
গতকাল এই ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় পুলিশ এবং বিজেপি নেতৃত্ব বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এলাকার বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ জানার পরেই সরকারি আধিকারিক অনাস্থা ভোটাভুটি পরে হবে বলে জানান।
অনাস্থার ভোটাভুটিকে ঘিরে গতকাল ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়। পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পুলিশের দাবি, ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে এলাকার বিজেপি পার্টি অফিসের বাইরে বাজি ফাটাচ্ছিল বিজেপির কিছু সমর্থক। তাদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আনার সময় বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সম্পাদক সুবিনয় ঘোষ ধৃতদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তাই তাঁকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তোলার সময় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের অভিযোগ, ধৃতরা মদ্যপান করছিল।

সুবিনয়কে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ, স্লোগান দেন বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনস্পতি দেব সহ অন্যান্য বিজেপি নেতা, কর্মীরা। গোপালনগর থানার পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে মনস্পতি দেবের বাকবিতন্ডা হয়। এর পাশাপাশি, বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার ওই এলাকায় গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা।

হাইকোর্টের রায়ের ব্যাপারে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বনস্পতি দেব বলেন, তৃণমূল যে গণতন্ত্র মানে না এবং এবং বিচার ব্যবস্থাও মানেনা তার প্রমাণ হচ্ছে আদালতের এই নির্দেশ আসার পরেও তারা ভোটাভুটি চালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ আসার পর তৃণমূল নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। পঞ্চায়েত দখল নিতে না পারায় পুলিশকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দলের কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে। সব মিটে যাওয়ার পর পুলিশের মদতে এলাকার কিছু তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের উপর চড়াও হয়। পুলিশ নিরপেক্ষ কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন বিধায়ক স্বপন মজুমদার।

