স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২২ মার্চ:
দুদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর এক ব্যক্তির নলি কাটা দেহ উদ্ধারকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল নবদ্বীপ ব্লকের ফকিরডাঙ্গা ঘোলাপাড়া পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়া এলাকায়। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মিলন ঘোষ (৪০)। তার বাড়ি নবদ্বীপ ব্লকের ফকির ডাঙ্গা ঘোলা পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঘোষপাড়া এলাকায়।
জানাগেছে, গত শনিবার বিকেলে শান্তিপুরের শ্রীরামপুর গ্রামে ব্যবসা সংক্রান্ত তাগাদা করতে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তারপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা নবদ্বীপ থানায় একটা নিখোঁজ ডায়েরি করেন। সোমবার সকালে শান্তিপুর থানার মানিকনগর গঙ্গার ঘাটের কাছে মিলন ঘোষের দেহ ভাসতে দেখা যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা এলাকার বাসিন্দাদের খবর দেন।পার্শ্ববর্তী ঘোষ পাড়া গ্রামের পরিবার ও গ্রামবাসীরা সেখানে ছুটে গিয়ে দেখতে পান মিলন ঘোষের নলি কাটা অবস্থায় দেহটা গঙ্গায় ভাসছে। এরপর মৃতদেহ উদ্ধার করে গ্রামে নিয়ে আসেন গ্রামবাসীরা। সেখানে ছুটে এলে দেখতে পান মিলন ঘোষের নলি কাটা অবস্থায় দেহটা গঙ্গায় ভাসছে।

এদিকে এই ঘটনার জেরে এলাকায় ছড়ায় তীব্র উত্তেজনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী। নিখোঁজ মিলন ঘোষের দেহ উদ্ধারে এলাকার ক্ষিপ্ত জনতার দাবি, অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মিলন ঘোষের পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অপরদিকে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের তরফে দাবি, উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তি বিজেপির একজন সক্রিয় কর্মী বলে দাবি তুলে ভোটের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে নৃশংস ভাবে তাদের এই কর্মীকে খুন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস বলে।

যদিও বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তাপস ঘোষ জানান, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে মিলন ঘোষকে কেউ খুন করে থাকতে পারে। তাপস ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এলাকাকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে বিজেপি। তার কথায়, মানুষ অনেক বেশি সচেতন। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার খুন হওয়া মিলন ঘোষ দলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।

রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের দাবি, মিলন ঘোষ খুন হয়েছে মুসলিমদের হাতে। প্রকৃত সত্য চাপা দেওয়ার জন্য মৃতদেহ নিজেদের কব্জায় নিয়ে লাসটা সরিয়ে দিয়েছে ওখানকার তৃণমূল নেতৃত্ব বলে তাঁর দাবি। তার আরও অভিযোগ, তিনি ওই গ্রামে যাওয়ার পরও গ্রামবাসীরা তাকে জানিয়েছেন মিলন ঘোষ একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিল এবং যারা খুন করেছে তারা তৃণমূলের দুষ্কৃতী। এটা একদিকে পরিকল্পিত খুন অন্যদিকে ওই গ্রামে পঞ্চাশ শতাংশ মানুষ ওখানকার ভোটার নয় নাগরিক নয়। তারা রোহিঙ্গা না বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তা তদন্তের জন্য তিনি নদিয়া জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

