মিলন খামারিয়া, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৪ এপ্রিল:
খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রে আক্রান্ত একাধিক বিজেপি নেতা এবং কর্মী। আহত কর্মীদের অনেককেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া পেয়েছেন। আজই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন খড়দহের প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি বিভূতি নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ২২ এপ্রিল খড়দহ বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির বেশকিছু কার্যকর্তা এবং কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলী সাংগঠনিক জেলার কার্যকর্তা সুপ্রিয় বিশ্বাস ও তার দাদা সুব্রত বিশ্বাস, অনুপ ঘোষ, শুভজিৎ ঘোষ, অশোক ঘোষ, দিব্যেন্দু বসু এবং প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি বিভূতিনাথ ব্যানার্জি।

বিজেপির অভিযোগ, ভোটের দিন হালদার বাগান ৬৯ নং বুথ ক্যাম্পে দুপুর ২ টোর দিকে হামলা চালায় কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতি। তারা বন্দুকের বাঁট দিয়ে সুপ্রিয় বিশ্বাসের মাথায় আঘাত করে। তারপর পাশে কনস্ট্রাকশানের জন্য পড়ে থাকা কাঠ দিয়ে পিঠে বারি মারে। তাঁর মাথা ফেটা রক্ত পড়তে থাকে। সুপ্রিয়বাবুকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর দাদা সুব্রত বিশ্বাসও গুরুতরভাবে আহত হন। কমবেশি আহত হন আরও কয়েকজন। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রহড়া থানার পুলিশ সেখানে আসে। তারপর সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে বন্দীপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই দিন ভোট শেষে কল্যাণনগর হাই স্কুলের ৭৭, ৭৮ এবং ৭৯ নং বুথের সামনে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বিজেপির কার্যকর্তাদের উপর ফের হামলা চালানো হয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহার মদত পুষ্ট শুভ ধর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা হামলা চালায়। তারা পিন্টু পাল নামে এক কার্যকর্তাকে বন্দুকের বাঁট ও লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে চলে যায়। পাশের দোকানের লোকেরা অচৈতন্য অবস্থায় তাকে বিএন বোস হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মাথায় তিনটি সেলাই পড়েছে। তিনি জানান, “কাজল সিনহার গুন্ডারা আমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল, পাশের দোকানের লোকেরা ছুটে না এলে সেদিন আমাকে মেরেই ফেলতো ওরা।”

খড়দহ বিধানসভার মন্ডল-১ এর প্রাক্তন সভাপতি বিভূতিনাথ ব্যানার্জি ও তার ভাই বিষ্ণুনাথ ব্যানার্জির উপরও বন্দীপুর আইডিয়াল স্কুলের কাছে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রথমে তাঁর ঘাড়ে লাঠি দিয়ে সপাটে মারে। তিনি রাস্তায় পড়ে যান। এরপর জনাতিরিশেক দুষ্কৃতি তাঁর মুখে ও পিঠে তলপেটে ঘুঁসি লাথি মারতে থাকে। দাদাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর ভাই বিষ্ণুনাথ ব্যানার্জি। তিনি দাদাকে জাপটে ধরেন। তখন দুজনকেই এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। একসময় বিভুতিবাবু নিস্তেজ হয়ে পড়েন। বিভুতিবাবু বলেন, “তখন ওরা ভেবেছিল আমি মরে গেছি, তাই ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।” এরপর আহত বিভুতিবাবুকে বিজেপি নেতা কর্মীরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ তিনি বাড়ি ফিরেছেন।

বিজেপির সমস্ত ঘটনা খড়দহ থানার পুলিশের বড়বাবুকে জানানো হয় বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেননি পুলিশ।
বিজেপির প্রার্থী শীলভদ্র দত্ত বলেন, “কাজল সিনহা বুঝে গেছেন যে, নির্বাচনে তিনি হারছেন, তাই মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমন করতে চাইছেন।বকিন্তু খড়দহের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এই গুন্ডারাজ শেষ করার পক্ষেই জনাদেশ দিয়েছেন আশাকরি। আগামীদিনে খড়দহের যাতে দুষ্কৃতিদের যথাযথ শাস্তি যাতে হয়,তার জন্য আমি চেষ্টা করবো।”

