আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৪ নভেম্বর: কয়েকদিন আগেই ভগবানপুরে মোহাম্মদপুর গ্রামে বিজেপির এক কর্মীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে, তার সাত দিনের মধ্যে ফের ভগবানপুরই বিজেপির বুথ সাধারণ সম্পাদককে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে একইভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই খুনের ঘটনায় সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন।
ভাইফোঁটার আগের দিন রাতে বিজেপি কর্মী চন্দন মাইতিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে খুন করে নদীর পাড়ে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। বিজেপির অভিযোগ ছিল তৃণমূলের দিকে। গতকালই নিহত বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর হাতে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি। সেই রাতেই আবারও এক বিজেপি কর্মী কে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিজেপি কর্মীর নাম ভাস্কর বেরা। স্থানীয় মন্ডল সভাপতি সুভাষ মাইতি জানিয়েছেন, তিনি ভগবানপুর বিধানসভার ভুপতিনগর থানার বাসুদেব বেড়িয়া অঞ্চলের ১১৪ নম্বর খাটিয়াল বুথের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গতকাল রাতে অন্যান্যদের সঙ্গে গ্রামের কালীপুজোর অষ্টমীর ঘট উত্তোলন করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। সেই ফাঁকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। তিনি মণ্ডপে না আসায় তাঁর খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা তাকে খুঁজে পাননি।

মন্ডল সভাপতি সুভাষ মাইতি জানান, রাত আড়াইটে নাগাদ তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে এক ভ্যানচালক ভাস্করবাবু কে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি তাকে ভ্যানে করে তুলে নিয়ে আসেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যান। তাঁকে পিটিয়ে কোমর হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিল।
দলের জেলা সভাপতি অনুপ মাইতি এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে তাঁর অনুরোধ, আপনারা একটু কাজ করুন। আপনাদের স্ত্রী-পুত্রকেও রক্ষা করতে হবে। আপনারা যে পাপের বোঝা নিয়ে চলেছেন, তা একদিন আপনাদেরও গ্রাস করবে। তৃণমূল অবশ্য এই ঘটনায় দলের কর্মীদের যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি যে কোনও খুনের ঘটনায় তৃণমূলকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলকে দায়ি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এটা এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার যে তৃণমূলের লোকজনই এই খুনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই, গণতন্ত্র শেষ হয়ে গেছে। সাত দিনের মধ্যে একই জায়গায় আমাদের দুজন কর্মীকে খুন করা হলো। আমরাও এর শেষ দেখে ছাড়ব।

