আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১৯ জুলাই: নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাস এখনও অব্যাহত দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায়। রবিবার রাতে গোসাবার কুমিরমারি গ্রামে এক বিজেপি কর্মী কৃষ্ণপদ মণ্ডলের উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গোসাবা বিজেপির ৩ নম্বর কমিটির ঐ সদস্য গুরুতর জখম হয়েছেন। সোমবার সকালে তাঁকে উদ্ধার করে ছোটমোল্লাখালি ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার সকালে সুন্দরবন কোস্টাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত বিজেপি কর্মী। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকেই আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এলাকায় তৃণমূলের অত্যাচারে বাড়ি ছেড়েছিলেন কৃষ্ণপদ। দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর রবিবার পুলিশের সহযোগিতায় বাড়ি ফেরে। ঐদিন সন্ধ্যায় বাড়ির কাছেই একটি চায়ের দোকানে বসে যখন তিনি চা খাচ্ছিলেন, ঠিক তখন আচমকাই একদল তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী তাঁর উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে। মাথা ফাটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। চোখেও গুরুতর আঘাত পান কৃষ্ণপদবাবু। ঘটনার খবর পেয়ে সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে।
কৃষ্ণপদর অভিযোগ, “এলাকায় বিজেপি করার কারণেই আমার উপর হামলা হয়েছে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বাড়ি ছাড়া ছিলাম। রবিবার পুলিশের মদতেই বাড়ি ফিরি। কিন্তু সেখানেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমার উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করলো।”
বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগণা পূর্ব সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুনিপ দাস বলেন, “নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিং সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তেই বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা করছে তৃণমূল। রবিবার রাতেও আমাদের এক বিজেপি কর্মীর উপর হামলা করে তাঁরা। এলাকায় বিজেপি করার অপরাধেই এই হামলা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করুক।”
যদিও বিজেপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলাকার তৃণমূল নেতা অচিন পাইক। তিনি বলেন,
“তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। কাউকেই তৃণমূলের লোকেরা মারেনি। যেটুকু খবর পেলাম তাতে ঐ ব্যক্তি এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় মানুষজন ওর উপর চড়াও হয়েছে বলে শুনেছি।”

