ঘোলায় বিজেপি কর্মী এবং তাঁর বাবাকে মারধর, বাড়িতে ঢুকে হামলার অভিযোগ

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি: সরস্বতী পুজোর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানার অন্তর্গত পানিহাটি পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতলা সারদাপল্লী এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ঢুকে মদ্যপ অবস্থায় ওই বিজেপি কর্মী ও তাঁর বাবাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই মারধরের ঘটনায় জখম হয়েছে শুভাশীষ দাস ও শুভজিত দাস। শুভাশীষ পানিহাটি এলাকার সক্রিয় বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত।

মঙ্গলবার রাতে সারদাপল্লীতে শুভাশীষ দাসের বাড়ির ভেতরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা মারধর করে বলে অভিযোগ। ছেলে শুভাশীষকে ওই দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তাঁর বাবা শুভজিত দাস। এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে স্থানীয় ঘোলা থানায়। শুভাশীষ দাস বলেন, “মঙ্গলবার রাতে শ্যাম, ভোলা এরা সবাই পাড়ারই তৃণমূল কর্মী, এরাই আমার বাড়িতে লাঠি, বন্দুক নিয়ে চড়াও হয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে, আমার মোবাইল ফোন ভেঙ্গে দেয়। বাবা আমাকে বাঁচাতে আসলে বাবাকে মেরে তাঁর চশমা ভেঙ্গে দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। আমি কেন এখানে বিজেপি দল করছি? এটাই আমার অপরাধ। ওরা হুমকি দিয়েছে, এই পাড়ায় বিজেপি করলে ওরা আমার বাড়ি, গাড়ি জ্বালিয়ে দেবে। শ্যাম তৃণমূল দল করলেও ও মদ্যপ অবস্থায় আমার বাড়ির ভেতরে ঢুকে এভাবে আক্রমন করবে ভাবিনি। ওর একটা মুদির দোকান আছে, আমরা ওর দোকান থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা করি। ও এরকম করবে কল্পনা করিনি। ওদের একটাই অভিযোগ, বিজেপি ছাড়তে হবে।”

পানিহাটি পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতলা সারদাপল্লীর বাসিন্দা শুভজিৎ দাসের বাড়িতে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে বাজানো হচ্ছিল বক্স। হঠাৎ কয়েকজন বাড়িতে এসে ঢুকে প্রথমে বলে বক্সটা বন্ধ করতে। কেন বাজাবো না? প্রতিবাদ করলেই বেধড়ক মারধর শুরু করে বিজেপি কর্মী শুভাশীষ দাসকে। শুভাশিসের বুকে-পিঠে ঘুষি মারা হয় ঘুসি মেরে চোখ ফুলিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর ঘোলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুভাশিস ও তার বাবাকে ঘোলা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।শুভজিৎ এর পরিবারের অভিযোগ, তারা বিজেপি করে সেই কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।

পানিহাটির বিজেপি নেতা বাপী কুন্ডু বলেন, “আমরা চাই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। এভাবে বিজেপিকে ভয় দেখিয়ে আটকে রাখা যাবে না। অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করলে আগামী দিনে বড় আন্দোলনে নামব আমরা।” এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ঢুকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পানিহাটি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *