ইডির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বিভাস চন্দ্র অধিকারী

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, ১৫ অক্টোবর: ইডি হোক কিংবা সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বিভাস চন্দ্র অধিকারী। শনিবার তার কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের ফ্ল্যাট সিল করে দেয় ইডি। এই খবর পাওয়ার পরেই তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়ার কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানান তিনি।

বিভাস চন্দ্র অধিকারী বর্তমানে বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি। বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের কৃষ্ণপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। ওই গ্রামেই কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলেন ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের আশ্রম। ঠাকুরের বাংলাদেশের হিমাইতপুরের মন্দিরের আদলে মন্দির গড়েন তিনি। ওই আশ্রমে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানস ভুঁইঞা, মুকুল রায়, বিজেপির কৈলাশ বিজয় বর্গীয়, রুদ্রনীল ঘোষ সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতারা এসেছেন। বিভাসবাবুর সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মাণিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠতা ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বিভাস চন্দ্র অধিকারী টাকা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন। কৃষ্ণপুর গ্রামে তার একটি টিচার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট আছে। শনিবার বিকেলে দলের বিজয়া সম্মেলনে মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন। কলকাতার ফ্ল্যাট সিল করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিষয়টি তিনি শুনেছেন। দীর্ঘদিন ওই ফ্ল্যাটে যাইনি। ফলে ঘরে তালা ঝোলানো ছিল। ইডি সন্দেহের বশে ফ্ল্যাট সিল করেছে। আমি ইডির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত”।

কলকাতার ফ্ল্যাটের আবাসিক ইডি ও সংবাদ মাধ্যমকে লোকজনের আনাগোনার অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে বড় বড় ট্রাঙ্ক ফ্ল্যাটে ঢোকানোর কথা জানান। এপ্রসঙ্গে বিভাসবাবু বলেন, “আশ্রমের লোকজন বিভিন্ন কাজে কলকাতা গেলে সেখানে উঠতেন। তাছাড়া গ্রামের কেউ চিকিৎসার জন্য কলকাতা গেলে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। ফলে লোকজনের যাতায়াত বেশি ছিল। তবে ট্রাঙ্ক-এর অভিযোগ ঠিক নয়”। বিভাসবাবু চান তদন্ত হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *