আমাদের ভারত, ৭ মে: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমে কটূ মন্তব্য করে নেটিজেনদের তোপে পড়লেন হুগলির বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারি। শনিবার সকালে পোস্ট করার সাত ঘন্টা পর বেলা আড়াইটা নাগাদ তাঁর পোস্টে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার হয়েছে যথাক্রমে ৫৭৮, ২৪৫ ও ৩৫। মন্তব্যের প্রায় সবেতেই সমালোচনা মনোরঞ্জনবাবুর বক্তব্যের।
উল্লেখ্য, দুদিনের সফরে কলকাতায় এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, শুক্রবার সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়িতে গিয়ে দেখা করবেন ও সেখানেই নৈশ ভোজ সারবেন। গতকাল ভিক্টোরিয়ায় কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিক মন্ত্রকের অনুষ্ঠানের শেষে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়িতে যান তিনি। আর নিজের সঙ্গে নিয়ে যান বঙ্গ বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতাকে। তাদের মধ্যে ছিলেন, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বঙ্গ বিজেপি-র অন্যতম পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য, সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।
এই ঘটনার পর মনোরঞ্জনবাবু লিখেছেন, ”সৌরভকে নিয়ে আমার কোনো দিন তেমন কোনো উন্মাদনা কোনোকালে ছিল না। আলালের ঘরের দুলাল। ব্যাট দিয়ে ভালো বল ঠুকতে পারে। সে নিয়ে আর যাই হোক দেশ জাতি মানুষের কোনো হিত মঙ্গল হয় না। মাত্র সে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিতে পারে। তাই সৌরভকে নিয়ে আমার কোনো আবেগ ছিলো না।
কিন্তু আজকে যখন সে এক চরম বাঙালী বিদ্বেষী বাংলা ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি বিরোধী- বাংলা ভাগের চক্রান্তকারী ব্যক্তিকে আদর আপ্যায়ন করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভুরিভোজ করায় – সৌরভকে নয়, যারা তাকে বাঙালির আইকন বলে ধেই ধেই নাচে তাদের দেখে করুনা হয়।“
তুষার সেনগুপ্ত লিখেছেন, ”যে কোনও ক্ষেত্রে তা সেটা সাহিত্যই হোক অথবা সংগীত কিংবা গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস, তাতে সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছাতে গেলে তার পেছনে অসম্ভব পরিশ্রম, অকল্পনীয় অধ্যাবসায় এবং সর্বোচ্চ ট্যালেন্ট লাগে। আপনার সেটা নিয়ে উন্মাদনা থাকল বা না থাকল তাতে জাস্ট কিছুই যায় আসে না। তবে জাস্ট রাজনৈতিক কারণে কোনও লেজেন্ডের দক্ষতাকে অস্বীকার করতে চাওয়ার মতো নোংরা মানসিকতা পোষণ করাটাও বাংলার সাংস্কৃতিক কালচার নয়। আপনি ব্যক্তি সৌরভকে পছন্দ নাই করতে পারেন কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অ্যাচিভমেন্টকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এতে আপনার মানসিক দৈন্য ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ পাচ্ছে না। আমি কবীর সুমনকে মানুষ হিসেবে পছন্দ করি না কিন্তু তাঁর মিউজিক্যাল ব্রিলিয়ান্সকে অস্বীকার করতে পারি না। আপনি সব বিষয়ে এইসব বলতে গিয়ে নিজেকে দেবাংশুর লেভেলে নামিয়ে আনছেন। এগুলো আপনাকে মানায় না। প্লিজ, এগুলো বন্ধ করুন। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই অনুরোধটা করলাম।“
শান্তনু মন্ডল লিখেছেন, ”সব কিছুতে রাজনীতি যোগ খুঁজছেন কেন? সৌরভ গাঙ্গুলি কিছুদিন আগে আমাদের প্রিয় দিদির সাথেও নবান্নে দেখা করে এসেছিল। বাঙালির ভালোবাসা সৌরভ, বাঙালির আইকন উনি। ওনার সম্বন্ধে এমন ভাষার প্রয়োগ বাঙালি মেনে নেবে না।“ অর্ণব গড়াই লিখেছেন, ”শুধু একটাই কথা বলবো, আপনি অনেকখানি নিচে নেমে গেছেন। একটু ওঠার চেষ্টা করুন।“
রণজিৎ মাইতি লিখেছেন, ”নিজের জন্যে ব্যাট ধরলেও আজ যাদের জন্যে পৃথিবী বাংলাকে চেনে সৌরভ তাদের মধ্যে অন্যতম একজন।“
কিংকর চক্রবর্তী লিখেছেন, ”আপনি ক্রমশই নিচে নেমে যাচ্ছেন…আসলে এটাই আপনার হবার ছিলো।“ শান্তনু মন্ডল লিখেছেন, ”সব কিছুতে রাজনীতি যোগ খুঁজছেন কেন? সৌরভ গাঙ্গুলি কিছুদিন আগে আমাদের প্রিয় দিদির সাথেও নবান্নে দেখা করে এসেছিল। বাঙালির ভালোবাসা সৌরভ, বাঙালির আইকন উনি। ওনার সম্বন্ধে এমন ভাষার প্রয়োগ বাঙালি মেনে নেবে না।“
মনোরঞ্জনবাবুর সমর্থনে উজ্জয়িনী হালিম লিখেছেন, ”একদম একমত। খুব সুবিধাবাদী ভদ্রলোক সৌরভ, তাকে নিয়ে আমারও কোন মুগ্ধতা ছিল না। যখন বিসিসিআই-এর উচ্চপদে বসেছে তখনই তার রাজনৈতিক রঙটা বোঝা গেছে। এরা আবার আইকন! আমাদের বাঙলার নেতা নেত্রীদের উচিত ওনাকে বয়কট করা।“ অমিয় মল্লিক লিখেছেন, ”এটা ঠিক বলেছেন! সৌরভ একজন ভালো ক্রিকেটার কিন্তু কখনোই আইকন নন, বাঙালির তো নয়ই। বর্তমানে ক্ষমতা ধরে রাখতে আপ্যায়ন করা সেটা আমাদের বুঝতে বাকি নেই।“

