(ফাইল ছবি: গত পুজোয় অভিজিতের বাড়িতে সুকান্ত মজুমদার এবং রুদ্রনীল ঘোষ।)
আমাদের ভারত, ৩ জুলাই: ভাইয়ের খুনীদের সাজার নির্দেশের অধরা স্বপ্ন নিয়ে এবারেও পুজোয় উদ্যোগী হয়েছেন বিশ্বজিৎ সরকার। গত বছর ২ মে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন নিহত হন বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার।
কাঁকুড়গাছির বাসিন্দা অভিজিৎ সরকারের মৃত্যুতে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও ফেসবুকে লাইভ ভিডিও করেন তিনি। তাতে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অভিজিৎ। এই ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। বিষয়টি নিয়ে বহু জল ঘোলা হয়। দেওয়ালে প্রায় পিঠ ঠেকে গেলেও হাল ছাড়তে রাজি নন দাদা বিশ্বজিৎ। এই মুহূর্তে তিনি ব্যস্ত খুঁটিপুজোর প্রস্তুতিতে।
বিচারের দাবিতে সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে গত ১৪ মে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ সরকার। তাতে লেখা, বিচার চাই। অভিজিৎ সরকারের হত্যাকারীদের যাতে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়, সেই দাবিও জানানো হয়। দ্রুত তদন্ত শেষ করা ও বিধায়ক পরেশ পাল ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করতে হবে বলেও দাবি করেন বিশ্বজিৎ। তিনি জানান, এই ঘটনায় যাঁরা খুন করিয়েছেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। মূলত তৃণমূল নেতা পরেশ পাল ও স্বপন সমাদ্দারের বিরুদ্ধেই বিশ্বজিৎ সরকারের অভিযোগ।
রবিবার বিশ্বজিৎ এই প্রতিবেদককে বলেন, “ভাইয়ের খুনীদের সাজা তো দূরের কথা, খুনীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে বহাল তবিয়তে। সিবিআইয়ের ভূমিকায় আমরা হতাশ। মূলত ভাইয়ের স্মৃতিতেই হচ্ছে আমাদের এই পুজো। কেবল মানিকতলা নয়, রাজ্যের নানা জায়গা থেকে পুজো দেখতে দর্শকরা আসেন। রবিবার, ১০ জুলাই হবে খুঁটিপুজো।”
বিশ্বজিৎ জানান, এবার পুজোর থিম হবে ভোট পরবর্তী হিংসা। একটু বিশদে বলল, ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে যে গণহত্যা, অত্যাচার হয়েছে, তা ফুটিয়ে তোলা হবে। চেষ্টা হবে ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত পরিবারের কান্না ফুটিয়ে তোলা। প্রতিমাশিল্পী বীরেন পাল।”

প্রসঙ্গত, প্রায় সাড়ে চার মাসের মাথায়, গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের মর্গ থেকে বেরোয় অভিজিতের মৃতদেহ। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে অভিজিতের শেষকৃত্য হয়। দেহ নিয়ে একাধিক অভিযোগ এবং বিতর্কের জেরে দীর্ঘকাল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করে রাখা ছিল তাঁর মৃতদেহটি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মৃতের ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। এরপরই দেহ সৎকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই টানাপড়েনের জেরে গত বছরেও মাত্রা পায় কাঁকুরগাছির সরকারবাড়ির পুজো।
পুজোর গতবারের এবং এবারের বাজেট কত? বিশ্বজিৎ বলেন, “জনগণ ঠিক করেছিল গত বছরের বাজেট, এবারও জনগণ ঠিক করবে বাজেট।” খুঁটিপুজোয় দিলীপ ঘোষ থেকে সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী থেকে অগ্নিমিত্রা পাল, প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল— বিজেপি’র নেতৃস্থানীয় সকলেই আমন্ত্রিত হয়েছেন বলে জানালেন বিশ্বজিৎ সরকার। গত বছরও ওঁরা পুজোয় অনেকেই এসেছিলেন।

