পিন্টু কুন্ডু , বালুরঘাট, ২৫ ফেব্রুয়ারি: ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর নামছেন না বিশ্বনাথ চৌধুরী। টানা ৪৫ বছর পর নির্বাচনে না লড়ার সিদ্ধান্ত আর এসপির অন্যতম হেভিওয়েট নেতা তথা বালুরঘাটের বিধায়কের। যাকে ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে গোটা দক্ষিন দিনাজপুরে। বিজেপি-তৃণমূলের নতুন প্রজন্মের কিস্তিমাতেই কি লড়ায়ের ময়দান থেকে বিশ্বনাথবাবুর সরে আসবার এমন সিদ্ধান্ত, উঠেছে সেই প্রশ্নও। যদিও শারীরিক অসুস্থতাকে সামনে এনেই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর কথা একপ্রকার স্পষ্ট ভাবে ব্যক্ত করেছেন আর এস পির রাজ্যনেতা বিশ্বনাথ চৌধুরী।
বালুরঘাট বিধানসভা আসন থেকে টানা আট বারের জয়ী বিধায়ক বিশ্বনাথ চৌধুরী। আরএসপি হয়ে নয় বার প্রার্থী হলেও মাত্র একবারই ২০১১ সালে পরিবর্তনের হাওয়ায় হার স্বীকার করতে হয়েছিল আরএসপির এই হেভিওয়েট নেতাকে। যারপর ২০১৬ সালে ফের বালুরঘাট আসন থেকে শঙ্কর চক্রবর্তীকে হারিয়ে বিধায়ক হন তিনি। এবার ২০২১ এর নির্বাচনের আগে আচমকা দলীয় বৈঠক ডেকে আগেভাগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি, যাকে ঘিরে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে কি বিজেপি ও তৃণমূলের যুব ব্রিগেডের কাছে হার স্বীকারের ভয়েই নিজেকে গুটিয়ে নিলেন আরএসপির এই নেতা? তিনি না দাঁড়ালে তবে বালুরঘাট আসনে আরএসপির নতুন মুখই বা কে? এমন সব প্রশ্নে রীতিমতো সরব হয়ে উঠছে এখন গোটা দক্ষিন দিনাজপুর। যদিও দলীয় সূত্রে খবর, বুধবার আরএসপির দলীয় এক বৈঠকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বালুরঘাট আসন থেকে সুচেতা বিশ্বাসকে প্রার্থী করা হবে বলে সর্বসন্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামফ্রান্ট্রের এই মেজো শরিক। যাকে ঘিরেও দলের অন্দরে চাপা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলেও দলীয় সুত্রের খবর। নতুন প্রজন্মের এই ভরা জোয়ারে কেন পুরোনো সেই মুখগুলিকেই বাছা হচ্ছে তা নিয়েও দলের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। যদিও সেসবকে আমল দিতে চাননি আর এস পির রাজ্য সম্পাদক বিশ্বনাথ চৌধুরী।
বিশ্বনাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, বয়স জনিত কারণের পাশাপাশি দলের শীর্ষ পদে রয়েছেন তিনি। যে কারণে এবারে বালুরঘাট আসন থেকে লড়ছেন না তিনি। দলের প্রার্থী তাদের ঠিক করা হয়ে গেছে, তবে তা এখন প্রকাশ করতে পারবেন না। পুরোনো দের উপরই দল বেশি ভরসা করে, কেননা দীর্ঘ লড়াই আন্দোলনে পুরোনোরাই দলের সম্পদ।

