পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ ফেব্রুয়ারি: প্রায় এক বছর আগে হওয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর পৌরসভার ২৪ নং ওয়ার্ডের বামফ্রন্ট প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে একবছর পর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন শাসক দল তথা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজিত প্রার্থী বিশ্বজিৎ মুখার্জি।
মেদিনীপুর শহরে গত এক বছর আগে পৌরসভা নির্বাচন হয়। আর সেই নির্বাচনে ২৫ টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয় পাঁচটি ওয়ার্ডে। পাঁচটি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ মুখার্জি তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে সরাসরি শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডবের দিকে আঙুল তোলেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, মেদিনীপুর শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব বাম ও রাম এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাকে পরাজিত করেছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যায় যে, দীর্ঘ এক বছর পর সাইনবোর্ড হয়ে যাওয়া বামফ্রন্টের কাছে প্রায় হাজার দেড়েক ভোটে পরাজয় হবে বলে মন থেকে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে বিধায়ক অনুগামী বিশ্বজিৎবাবুর। তিনি ভেবেছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী, তার উপর বিধায়কের আশীর্বাদ আছে মানে অনায়াসে জিতে যাব। কিন্তু মানুষের ভোটে জিততে না পারার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেয় একবছর পর।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যে ওই ওয়ার্ডে পৌর নির্বাচনে জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারে এগিয়েছিল তৃণমূল এবং বিজেপি। কিন্তু জৌলুস হীন নিঃশ্বব্দ ভাবে প্রচার করেছেন বিগত পাঁচ বারের কাউন্সিলর গোপাল ভট্টাচার্য। আর এবারেও ওয়ার্ডটিতে ষষ্ঠ বারের জন্য জয়লাভ করেন সিপিএম প্রার্থী গোপাল ভট্টাচার্য। এই ব্যাপারে শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পান্ডব বলেন, যে বিশ্বজিৎ মুখার্জি কোনো দিনও তৃণমূল কংগ্রেস করেননি, তিনি রাঙামাটি সেবা সমিতি করতেন। দল প্রার্থী করেছে আমরা মেনে নিয়েছি। আজ যে হেরে যাওয়ার পর আমার নামে হোক, আর যার নামেই হোক যে অভিযোগ করছে তা সবকিছু মিথ্যা এবং অতিরঞ্জিত। যেদিন তিনি হেরে যান তখন আমাদের কর্মীরা কেঁদেছিল।

