আশিস মণ্ডল, আমাদর ভারত, রামপুরহাট, ২৭ ডিসেম্বর: দুবরাজপুরে অনুব্রত মণ্ডলের জামিন মানে তার তিহার জেলার রাস্তা প্রস্তুত হল। সেখানে আর পাঁঠার মাংস, পছন্দের খাবার খেতে পারবেন না। ফোন করতে পারবেন না দলের নেতা কর্মীদের”। মঙ্গলবার নলহাটির হরিপ্রসাদ হাইস্কুল মাঠে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি বিপ্লব ওঝা। সেই সঙ্গে তৃণমূলের টিকিটে জেতা বীরভূমের জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করলেন তিনি। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে দলত্যাগের কথা ঘোষণা করেন বিপ্লববাবু। এদিন তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।
একসময় বীরভূম জেলা কংগ্রেসের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে নলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান হন। ২০০৯ বীরভূম লোকসভায় তৃণমূলের টিকিটে সংসদ শতাব্দী রায় জেতার পরেই ওই সালে প্রথম সমস্ত কাউন্সিলদের নিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেন বিপ্লব ওঝা। সেই সময় নলহাটি পুরসভা রাজ্যে তৃণমূলের প্রথম দখলে আসে। পরবর্তী সময়ে তাকেই নলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান করে। নলহাটি বিধানসভার উপনির্বাচনে তাকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু বামফ্রন্টের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জেলা পরিষদের সদস্য হন। কিন্তু তাঁকে কোনো পদে রাখা হয়নি। কিন্তু বছরখানেক ধরে দলে ব্রাত্য করে রাখা হয় তাকে। সেই আক্ষেপেই তিনি দলত্যাগ করলেন বলে দাবি বিপ্লববাবুর।
এই সভায় বিজেপিতে যোগদান করেন বগটুই কাণ্ডে আগুনে পুড়ে নিহত মিনা বিবির স্বামী ফটিক শেখ।
এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, রাজ্য সরকারের পুলিশ টুলু মণ্ডলকে যেভাবে আটকে রেখেছে সেভাবেই কেস্ট মণ্ডলকে আটকে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। তাকে তিহার জেলে যেতে হবেই”।

