বড় খবর! জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন হিন্দু আবেদনকারী

“এই যুদ্ধে শামিল হয়ে বড় ভুল করেছি। আসলে ধর্মের নামে ছিনিমিনি খেলা মানুষের ভিড়ে সমাজটা ভরে গেছে।
কিছু লোক এই আইনি লড়াইকে বিপথে চালিত করছে। ফলে অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।”

আমাদের ভারত, ৫ জুন:
পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলার অন্যতম প্রধান হিন্দু আবেদনকারী। হিন্দু পক্ষের তরফে আবেদনকারী জিতেন্দ্র সিং বিষেণ জানিয়েছেন, বেশ কয়েকবার হেনস্থার মুখে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও ভাইজি। তাই সমস্ত মামলা তুলে নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, মামলার মূল উদ্দেশ্য বানচাল করে দিতে আরও মামলা করা হয়েছে। এরফলে মসজিদকে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের অংশ করার যে উদ্দ্যেশ্য নিয়ে মামলা করা হয়েছিল তা সফল হবে না বলে তাঁর মত।

শুধু তাই নয়, জ্ঞানবাপী মামলা থেকে সরে দাড়িয়েছেন তাঁর আইনজীবীও। মামলা থেকে সরে গিয়ে জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, তাঁর আর সামর্থ্য নেই এই ধর্মযুদ্ধ বা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। তিন বছর আগে জিতেন্দ্রর ভাইজি রাখি সিংহ সহ পাঁচ মহিলা বারানসি আদালতের দ্বারস্থ হন, জ্ঞানবাপীর মা শৃঙ্গার গৌরীর পুজো করতে চাওয়ার দাবিতে। মসজিদের ভিতরের পশ্চিম দেওয়ালে দেবদেবীর মূর্তির অস্তিত্বের দাবি করে পূজা অর্চনার অনুমতি চেয়েছিলেন তারা বারানসি আদালতে। তার পাল্টায় জ্ঞানবাপী মসজিদ কমিটি আবেদন করে জানায়, হিন্দু মহিলাদের মামলা খারিজ করা হোক। গত বুধবারে জ্ঞানবাপী মামলায় মসজিদ কমিটির দাবি খারিজ করে দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

কিন্তু তারপরেও মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন জিতেন্দ্র। একটি বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আমি ও আমার পরিবার জ্ঞানবাপী মসজিদ সংক্রান্ত সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এই যুদ্ধে শামিল হয়ে বড় ভুল করেছি। আসলে ধর্মের নামে ছিনিমিনি খেলা মানুষের ভিড়ে সমাজটা ভরে গেছে। তাই দেশ ও ধর্মের স্বার্থের নানা আদালতে যা কিছু মামলা দায়ের করেছিলাম প্রত্যেকটি থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছি। জিতেন্দ্রর দাবি, জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলার শুনানি চলার সময় তাঁর স্ত্রী ও ভাইজিকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মামলা চালিয়ে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব বলে তাঁর মত।

বিশ্ব বেদিক সনাতন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা জিতেন্দ্র সিং আরও জানিয়েছেন, তাদের করা মামলার পরও আরো ছয়টি মামলা হয়েছে মসজিদ নিয়ে। বারাণসী জেলা আদালতের বিচারক গত মাসে এক নির্দেশে বলেছেন সাতটি মামলার পৃথক শুনানি হবে না। মামলাগুলি যেহেতু জ্ঞানবাপী মসজিদ সংক্রান্ত তাই একত্রে শুনানি হবে। এই সিদ্ধান্তের পরই মামলা নিয়ে আর লড়াই করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিতেন্দ্র। তাঁর দাবি, মামলার উদ্দেশ্য বানচাল করে দিতেই বাকি মামলাগুলো করা হয়েছে। এমনকি জেলা আদালত সাতটি মামলা একত্রে শুনানির কথা বলার সময় বাকি মামলার আইনজীবীরা আপত্তি করেননি। তার বক্তব্য, “আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি সাত মামলার একত্রে শুনানি হলে আমার মামলা করার উদ্দেশ্য সফল হবে না।” তিনি বলেছেন, তার লক্ষ্য ছিল আদালতে লড়াই করে জ্ঞানব্যাপী মসজিদ চত্বরকে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের অংশভুক্ত করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য এখন সম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। তাই মামলা থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। জিতেন্দ্র সিং এর বক্তব্য তার উদ্দেশ্য শুধু হিন্দু দেবীর মূর্তি পূজার অধিকার লাভ করাই নয়, তার লক্ষ্য আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মসজিদ এলাকাটি কাশি বিশ্বনাথ মন্দির প্রাঙ্গণের অংশ প্রমাণ করা। কিন্তু কিছু লোক এই আইনি লড়াইকে বিপথে চালিত করছে। ফলে তার অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি আইনি বিবাদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *