আমাদের ভারত, ২৭ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহাওয়ার ফলে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রবল। এই পরিস্থিতিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। পেট্রোল ও ডিজেলে আন্তঃশুল্ক লিটার পিছু ১০ টাকা কমানো হলো। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে পেট্রোলের আন্তঃশুল্ক ১৩ থেকে ৩ টাকা আর ডিজেলের ১০ টাকা থেকে ০ হলো। এর ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হলো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে গোটা দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারে তার জেরে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কার আতঙ্কে জ্বালানি কেনার বহুলতার খবর মিলছিল। এই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি বিপণন সংস্থাগুলো পেট্রোলের লিটার পিছু ৫ টাকা ও ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে বাজারে চাপ আরো বাড়ছিল। হায়দ্রাবাদ, চেন্নাইয়ে একাধিক পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন দেখা যায়। অনেকেই ফুল ট্যাঙ্ক করে রাখার চেষ্টা করেছেন অযথা, এর ফলে ঘাটতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল।
ভারতে পেট্রোল ডিজেলের খুচরো দাম ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে কার্যত একই রয়েছে, কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। ওই দিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়। যার পাল্টা জবাব দেয় তেহেরান। সেই থেকে অস্থির জ্বালানির বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই উঠা নামার চাপ সামলাতে হয়েছে তেল বিপণন সংখ্যাগুলিকে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, এই তিন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা উচ্চ দামের সময় লোকসান মেনে নিয়েছে। আবার দাম কমলে লাভ তুলেছে।
এবার শুল্ক কামানোর সিদ্ধান্তে এদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল-ডিজেলের দাম আপাতত স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতে পারে।
তবে এর মধ্যে প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম লিটার পিছু কুড়ি টাকা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজেলের দামও প্রায় ২২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। যদিও সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের দামে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি।

