BJP বঙ্গ বিজেপির সংগঠনে বড় পরিবর্তন, যুগ্ম সংগঠন সম্পাদক হলেন সতীশ ধনদ

শ্রীরূপা চক্রবর্তী
আমাদের ভারত, ২১ জুলাই:
বঙ্গ বিজেপি সংগঠনের দায়িত্বে এলেন নতুন নেতা। বিজেপি রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী সাথে এবার বঙ্গ বিজেপি সংগঠনের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। রাজ্য বিজেপির সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন সতীশ ধনদ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা তাঁকে নিযুক্ত করেছেন।

মনে করা হচ্ছে একাধিক কারণ কাজ করেছে ধনদকে বাংলায় সংগঠনে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে। সংগঠনের কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা আনা, আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মোকাবিলা করা ও রাজ্যে সংগঠনের হালহকিকত সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানো। এই সবকিছুই হতে পারে এই নতুন নেতাকে আলাদা করে দায়িত্বে আনার ক্ষেত্রে। তবে সবটাই যে ২৪–এর লোকসভা ভোটের লক্ষ্যে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই সতীশ ধনদ গোয়ায় বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গোয়ায় নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলা হয় তাঁকে। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাকেই এবার বঙ্গ বিজেপিতে কাজে লাগাতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই তাকে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক করে আনা হল। তবে অনেকেই বলছেন, আসলে দলের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরীর ডানা ছাঁটতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক সময় বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপির একাংশ। সরাসরি নাহলেও তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের সাথে যোগের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টারও পড়েছিল কলকাতায়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি ছিল। তাই অন্য রাজ্য থেকে আর একজনকে নিয়ে এসে তাঁর একাধিপত্যে ভাগ বসানো হলো বলে মনে করা হচ্ছে। অমিতাভ চক্রবর্তী বিরুদ্ধে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছিল সেই অভিযোগের কথা দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে ছিল বলে জানা গেছে। এমনকি বিজেপির একাধিক মোর্চায় যাদের নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে তারা কোনো রকম আলোড়ন তৈরি করতে পারেনি ফলে মোর্চাগুলি দুর্বল হয়েছে। এরজন্য অনেকেই অমিতাভকে দায়ী করে থাকেন ও এর জন্য সংগঠন শক্তিশালী হয়নি বলে দাবি করা হয়ে থাকে। এই সতীশ ধনদকে দিয়ে সেই সমস্যার সমাধান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব করতে চাইছে বলে ধারণা অনেকের।

একই সঙ্গে দলের মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে, তাও কিছুটা সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হলো এই সতীশ ধনদের মাধ্যমে বলে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানো হচ্ছে না বলে যে অভিযোগ উঠতো বার বার তারও সুরাহা হলো এর মাধ্যমে। কারণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সব তথ্যই এবার ধনদের মাধ্যমে যাচাই করে নিতে পারবে। আর সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা নিতে পারবে, যেটা ২১ নির্বাচনে ফাঁক থেকে গিয়েছিল–কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে। অনেক সময় অতিরঞ্জিত তথ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে আর তার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা ফলপ্রসূ হয়নি।

বাংলায় দলের যে সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে সেগুলোকে কাটিয়ে দলকে একসাথে বাধার যেমন উদ্দ্যেশ্য তেমনি সতীশ ধনদের কেন্দ্র কিন্তু আসানসোল। সেক্ষেত্রে তিনি অবাঙালি হওয়ায় আর ওই এলাকায় বিরাট সংখ্যক অবাঙালি থাকায় তার কাজ করা যেমন সুবিধাজনক হবে তেমনি ওই অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় তার নেতৃত্বে সংগঠন মজবুত হবে।

তবে সর্বোপরি যে বিষয়টি কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, তাহলো এই সতীশ ধনদের পর আরও দুজনকে বঙ্গ বিজেপিতে সাংগঠনিক দায়িত্বে আনা হতে পারে। আর এস এস নিজেদের সাংগঠনিক কাজের সুবিধার জন্য বাংলাকে উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যবঙ্গ এই তিন ভাগে ভাগ করেছে। মনে করা হচ্ছে বিজেপিও সেই রোড ম্যাপ ধরেই এগোচ্ছে। তাই গোটা রাজ্যের দায়িত্বে থাকলেও সতীশ ধনদের কেন্দ্র করা হয়েছে মধ্যবঙ্গের আসানসোল। আর একই সঙ্গে এই এলাকায় দলের নজরদারিতে যে ঘাটতি ছিল তা মেটানোর চেষ্টা করা হলো।বিজেপির ভিতর জল্পনা চলছে খুব তাড়াতাড়িই উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে হয়ত আরও দু’জনকে সহকারী সংগঠন সম্পাদক করে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো বড় রাজ্যে একাধিক সংগঠন সম্পাদক দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *