আমাদের ভারত, ৫ মার্চ: প্রার্থী তালিকায় একের পর এক চমক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলেরপ্রার্থী তালিকা তরুণ মুখ থেকে তারকায় খচিত। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বেশ কিছু প্রবীণ তথা হেভিওয়েট নেতাকে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তাদের মধ্যে আছেন পূর্ণেন্দু বসু, জটু লাহিড়ী, মণীশ গুপ্ত, অমিত মিত্র, সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, ব্রজ মজুমদার, সোনালী গুপ্ত, সমীর চক্রবর্তী, অমল আচার্যের মত বড় বড় নাম। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার একেবারে প্রথমেই মমতা বলেন এখন করোনা পরিস্থিতিতে যাদের বয়স ৮০ পেরিয়েছে তাদের আর এবার প্রার্থী করা হচ্ছে না। তাদের সুস্থ থাকাটা জরুরী। এরপরই তৃণমূল নেত্রীর ঘোষণা বয়সের কারণে যে সব প্রবীণ মানুষরা টিকিট পেলেন না তাদের বিধান পরিষদের স্থান দেবে সরকার। ফের ক্ষমতা দখল করলে বিধান পরিষদ তৈরি করা হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান নীতিগত কারণেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার সহ একাধিক রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। ১৯৫২-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বিধান পরিষদের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু হাজার ১৯৬৯ সালে আইন পাস করে এই বিধান পরিষদের অবলুপ্তি ঘটানো হয়। কিন্তু ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন বিধান পরিষদ ফিরিয়ে আনা হবে বাংলায়। কিন্তু এখনও তা কার্যকর করা হয়নি। তবে এবার দলের প্রবীণ নেতাদের জায়গা করে দিতে সেই পথেই হাঁটবে নেত্রী, তার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এ দিন তিনি।
পূর্ণেন্দু বসুর মতো হেভিওয়েট নেতা কেন তালিকায় নেই? সেই প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, আমার হয়ে নন্দীগ্রামে কাজ করতে চান পূর্ণেন্দু বসু। তিনি নিজেই সে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে ক্ষমতায় এসে বিধান পরিষদ গঠিত হলে প্রথমেই যে পূর্ণেন্দু বসুর নাম থাকবে তা স্পষ্ট জানিয়েছেন নেত্রী। শরীর খারাপ থাকায় অমিত মিত্র ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাকেও বিধান পরিষদের জায়গা দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। করোনার কারণে প্রবীণ মানুষদের জন্য পোস্টাল বেলেট ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর কমিশনের এই পদক্ষেপকে সম্মান জানাতেই ৮০ বছর বয়সের নেতাদের প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তৃণমূল নেত্রী।
রাজ্য আইনসভা যদি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট হয় তবে তার উচ্চকক্ষের নাম বিধান পরিষদ এবং নিম্নকক্ষের নাম বিধানসভা। ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যে বিধান পরিষদের আর অস্তিত্ব নেই। তবে উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহারের মধ্যে রাজ্যে এখনও রয়েছে বিধান পরিষদ। তবে পশ্চিমবঙ্গেও আবার এই বিধান পরিষদ ফিরে আসে কিনা তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ভোটে পর কে ক্ষমতায় আসে তার জন্য।

